সম্বলপুরি শাড়ির বাক্সে ১১৩ কেজি গাঁজা, অনলাইন পাচারচক্রের সাত সদস্য গ্রেফতার

যা জানা জরুরি
- ভুবনেশ্বর: বাইরে থেকে দেখলে পরিচিত অনলাইন ব্যবসা।
- পণ্য হিসেবে বিক্রি করা হত ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী সম্বলপুরি শাড়ি।
- ক্রেতার ঠিকানায় নিয়মিত পৌঁছেও যেত শাড়ির বাক্স।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ভুবনেশ্বর: বাইরে থেকে দেখলে পরিচিত অনলাইন ব্যবসা। পণ্য হিসেবে বিক্রি করা হত ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী সম্বলপুরি শাড়ি। ক্রেতার ঠিকানায় নিয়মিত পৌঁছেও যেত শাড়ির বাক্স। কিন্তু সেই ব্যবসার আড়ালেই দেশজুড়ে চলছিল গাঁজা পাচার। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চক্রটির পর্দা ফাঁস করেছে ওড়িশার বলাঙ্গির জেলা পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে সাত জনকে। বাজেয়াপ্ত হয়েছে প্রায় ১১৩ কিলোগ্রাম গাঁজা।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে দু’জন গোটা পাচারচক্রের মূল পাণ্ডা। চলতি বছরের গোড়ায় তারা একটি প্রথম সারির অনলাইন বিপণন সংস্থায় বিক্রেতা হিসেবে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছিল। প্রধান পণ্য ছিল বিখ্যাত সম্বলপুরি শাড়ি। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা শাড়ির বরাতের আড়ালেই গাঁজা পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।
বুধবার গাঁজা-ভর্তি বাক্সগুলি বলাঙ্গিরের নিকটবর্তী পণ্য সরবরাহ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সময় সাত অভিযুক্তকে ধরে পুলিশ। অন্তত দশটি বড় বাক্সের প্রত্যেকটির ভিতরে দশটি করে ছোট বাক্স ছিল। তার মধ্যেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মাদক লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই চালানটি উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।
বলাঙ্গিরের পুলিশ সুপার অভিলাষ জি জানিয়েছেন, গাঁজা সংগ্রহ করা হত পার্শ্ববর্তী কান্ধামাল জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে। তার পরে ছোট ছোট মোড়কে ভরে সেগুলি শাড়ির বাক্সের ভিতরে রাখা হত। ক্রেতার কাছ থেকে টাকা পাওয়ার পরে অনলাইন সংস্থার মাধ্যমে ঠিকানা-সহ বিশেষ সংকেত তৈরি করে বাক্সগুলি সরবরাহ কেন্দ্রে জমা দেওয়া হত।
পাচারকারীরা অনলাইন পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার একটি বড় ফাঁক কাজে লাগিয়েছিল। সিল করা বাক্সের ভিতরে আসলে কী রয়েছে, তা যাচাই বা যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট সরবরাহ কেন্দ্রে ছিল না। কর্মীরা কেবল বাক্সের সংকেত পরীক্ষা করে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতেন। ফলে শাড়ির নামে গাঁজা গেলেও কারও সন্দেহ হত না।
তদন্তকারীরা নজরদারি ক্যামেরার ছবি পরীক্ষা করে জানতে পেরেছেন, এই একই কৌশলে এর আগেও অন্তত চার-পাঁচ বার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গাঁজা পাঠিয়েছে চক্রটি। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, গাঁজার ক্রেতারাই বলাঙ্গিরে এসে অভিযুক্তদের এই অভিনব পাচারপদ্ধতির প্রশিক্ষণ দিয়েছিল।
অনলাইন বিপণন সংস্থাকে নোটিস পাঠানো হবে কি না, তার আইনি দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি, বলাঙ্গিরের সরবরাহ কেন্দ্রকে বিমানবন্দরের মতো বাক্স পরীক্ষার যন্ত্র বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওড়িশা পুলিশের মতে, কান্ধামাল-সহ বিভিন্ন আদিবাসী-অধ্যুষিত জেলায় বেআইনি গাঁজা চাষ হয়। সেখান থেকে উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, কেরল ও গোয়ায় মাদক পাঠায় আন্তঃরাজ্য চক্র। জুন ও জুলাইয়ে বিশেষ অভিযানে প্রায় ১০৮ মেট্রিক টন বাজেয়াপ্ত গাঁজা ধ্বংস করেছে পুলিশ, যার আনুমানিক মূল্য ৫৪৪ কোটি টাকা। সম্বলপুরি শাড়ির মতো ওড়িশার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পাচারের ঢাল হিসেবে ব্যবহারের ঘটনাটি তাই প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



