খবর

উস্কানির প্রমাণ কোথায়, রাজ্যকে প্রশ্ন হাইকোর্টের; অন্তর্বর্তী জামিন লাহেক আলির

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদ ঘিরে অশান্তি এবং গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর মামলায় প্রায় ৫০ দিন জেলবন্দি থাকার পর অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন সিপিআই(এম)…
  • বুধবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চ তাঁর মায়ের গুরুতর অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেছে।
  • ওই দিন পুলিশকে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদ ঘিরে অশান্তি এবং গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর মামলায় প্রায় ৫০ দিন জেলবন্দি থাকার পর অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন সিপিআই(এম) নেতা মহম্মদ লাহেক আলি। বুধবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চ তাঁর মায়ের গুরুতর অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ৯ সেপ্টেম্বর। ওই দিন পুলিশকে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

লাহেকের আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মা নরেন্দ্রপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং বর্তমানে কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সহায়তায় রয়েছেন। মায়ের পাশে থাকার সুযোগ দেওয়ার জন্যই সাময়িক জামিন চাওয়া হয়। মানবিক কারণের পাশাপাশি মামলায় লাহেকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগের ভিত্তি নিয়েও শুনানিতে প্রশ্ন ওঠে।

রাজ্যের আইনজীবী কল্লোল মণ্ডল জানান, উস্কানিমূলক মন্তব্য করে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগেই লাহেককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বিচারপতি তখন জানতে চান, অভিযুক্ত ঠিক কী মন্তব্য করেছিলেন। আদালতের বক্তব্য, সেই মন্তব্যই যদি সমস্ত অভিযোগের ভিত্তি হয়, তা হলে সেটি আদালতের সামনে দেখাতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি সেই মুহূর্তে হাতে নেই বলে জানান রাজ্যের আইনজীবী। নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় লাহেকের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা-ও জানতে চায় আদালত। রাজ্য স্পষ্ট জানায়, ওই অপরাধে তিনি জড়িত নন; তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ কেবল পরবর্তী বিক্ষোভে উস্কানি দেওয়ার।

লাহেকের বিরুদ্ধে আগে কোনও অভিযোগ না থাকা এবং তাঁর মায়ের সঙ্কটজনক অবস্থা বিবেচনা করে আদালত আপাতত তাঁকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী জামিনে থাকার সময়ে তিনি নিজের এলাকা ছেড়ে যেতে পারবেন না। তদন্তের প্রয়োজনে বারুইপুর থানার পুলিশ তাঁকে ডাকলে হাজির হতে হবে।

গত ৫ জুলাই বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে এক নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারের পরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা মেয়েটির দেহ নিয়ে বারুইপুর রোডে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাস্তা ও রেলপথ অবরোধের পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে।

এই অশান্তির মধ্যেই ২৬ বছরের ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে জনতার একাংশ টেনে বার করে মারধর করে বলে অভিযোগ। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার সঙ্গে ইন্দ্রজিতের কোনও যোগ ছিল না।

বিক্ষোভে উস্কানি, বেআইনি জমায়েত, দাঙ্গা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো এবং কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের আক্রমণ-সহ একাধিক অভিযোগে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে লাহেকের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রুজু করেছিল। ১২ জুলাই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সিপিআই(এম) প্রথম থেকেই তাঁর গ্রেফতারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এখন ৯ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে পুলিশের প্রতিবেদন এবং উস্কানিমূলক মন্তব্যের দাবির সমর্থনে কী প্রমাণ পেশ করা হয়, সে দিকেই নজর থাকবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles