‘এত ধ্বংস দেখে কান্না পাচ্ছে’, নেপালের বিপর্যয়ে উদিত

যা জানা জরুরি
- নেপালের মাটিতে বিপর্যয়ের ছবি দেখে চোখে জল গায়ক উদিত নারায়ণ ঝায়ের।
- হিমালয়ের নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে বুধবার হিমবাহের বিশাল অংশ ধসে নেমে আসে হড়পা বান।
- প্রাণহানি, ধ্বংসস্তূপ আর বিপন্ন মানুষের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই শোক নেমে এসেছে ভারতীয় বিনোদনজগতেও।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নেপালের মাটিতে বিপর্যয়ের ছবি দেখে চোখে জল গায়ক উদিত নারায়ণ ঝায়ের। হিমালয়ের নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে বুধবার হিমবাহের বিশাল অংশ ধসে নেমে আসে হড়পা বান। প্রাণহানি, ধ্বংসস্তূপ আর বিপন্ন মানুষের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই শোক নেমে এসেছে ভারতীয় বিনোদনজগতেও। নেপালি বংশোদ্ভূত উদিতের কাছে এই বিপর্যয়ের যন্ত্রণা অবশ্য আরও ব্যক্তিগত।
উদিতের বাবা ছিলেন নেপালের নাগরিক। বিহার ও নেপালের সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত মিথিলা অঞ্চলের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক যোগাযোগও রয়েছে। সেখানে এখনও তাঁর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব থাকেন। সরাসরি বিপর্যস্ত এলাকার কাছে না থাকলেও তাঁদের নিয়েও উদ্বেগ কাটছে না।
উদিতের কথায়, “খুবই দুঃখজনক ঘটনা। কিন্তু এ ঈশ্বরের ইচ্ছা, আমাদের কিছু করার নেই।”
বিপর্যয়ের ভয়াবহতা নিয়ে এখনও পুরোপুরি খবর পাননি তিনি। তবে জানেন, তাঁর পরিচিত এলাকাগুলিতেও বন্যার প্রভাব পড়েছে এবং সতর্কতা জারি হয়েছে।
গায়কের কথায়, “খুব বেশি খবর এখনও পাইনি। তবে ওদিকেও বন্যা হয়েছে, সেখানেও বিপদসতর্কতা জারি করা হয়েছে।”
ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চান উদিত। তবে অর্থসাহায্য যাতে সত্যিই দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছয়, সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়েই এগোতে চান তিনি।
তাঁর কথায়, “সাহায্য করতে আমি সব সময়ই প্রস্তুত। সারা বিশ্বের মানুষ দুঃখিত, উদ্বিগ্ন। আর আমার কাছে এই যন্ত্রণা একেবারে নিজের ঘরের। এত ধ্বংস দেখে শুধু কান্না পাচ্ছে। আমরা প্রার্থনা করছি, যেন দ্রুত সব ঠিক হয়ে যায়।”
বিপন্ন নেপালের পাশে বলিউড
নেপালের বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এবং তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বলিউডের একাধিক তারকা।
নেপালের মেয়ে অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা ইনস্টাগ্রামে একাধিক পোস্টে নেপালের জন্য প্রার্থনা করার আবেদন জানিয়েছেন। দুর্গতদের সাহায্যে কী ভাবে অর্থ পাঠানো যায়, সেই সংক্রান্ত তথ্যও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
নেপালি বংশোদ্ভূত অভিনেতা রোহিত সরফও সমাজমাধ্যমে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি লিখেছেন, “নেপাল থেকে যে ছবিগুলো আসছে, তা একেবারে হৃদয়বিদারক। নেপাল চিরকাল আমার হৃদয়ের খুব কাছের। এত মানুষকে কষ্ট পেতে দেখা অসহনীয়।”
নিখোঁজদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের পরিবারের জন্য প্রার্থনা করার পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণকাজে যুক্ত মানুষদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রোহিত।
অভিনেতা ও সমাজসেবী সোনু সুদও সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। এক্সে তিনি লিখেছেন, “নেপাল, তুমি একা নও। খাবার, আশ্রয় এবং তোমাদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করার শক্তি নিয়ে আমরা আসছি।”
সঞ্জয় দত্ত এবং অরুণ গোভিলও বিপর্যস্ত মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ হয়েছে। নিখোঁজ দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পরিস্থিতির কারণে আটকে পড়েছেন ভারত, আমেরিকা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া-সহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকরাও।
হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোটেকোশী নদী বরাবর রাসুয়া অঞ্চলে বন্যার জেরে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নেপাল পর্যটন পর্ষদ জরুরি সহায়তার জন্য কয়েকটি ফোন নম্বরও প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে যোগাযোগের নম্বর ১২৩৪, জরুরি সহায়তা নম্বর ১১৪৪ এবং পর্যটক পুলিশের নম্বর ৯৮৫১২৮৯৪৪৫।
ভারত, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নেদারল্যান্ডসের পর্যটকদেরও নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
প্রকৃতির এই ভয়াবহ তাণ্ডবের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিখোঁজদের সন্ধান এবং দুর্গতদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়া। আর সেই প্রার্থনাতেই শামিল উদিত থেকে শুরু করে নেপালের সঙ্গে আবেগের বন্ধনে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য মানুষ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



