দু’বছরের বাজি!

যা জানা জরুরি
- আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তাই দিতে চাইছে না তেহরান।
- বরং ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে দু’বছরের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরি রয়েছে বলে দাবি করলেন ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ।
- তাঁর বার্তা স্পষ্ট—আমেরিকা যতই চাপ বাড়াক, শেষ পর্যন্ত ‘আরও একটি পরাজয়’ই অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তাই দিতে চাইছে না তেহরান। বরং ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে দু’বছরের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরি রয়েছে বলে দাবি করলেন ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ। তাঁর বার্তা স্পষ্ট—আমেরিকা যতই চাপ বাড়াক, শেষ পর্যন্ত ‘আরও একটি পরাজয়’ই অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।
সোমবার ইরানের সরকারি দূরদর্শনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাদানিজাদেহ বলেন, ইরানের জনগণ ও প্রশাসনের দৃঢ়তা ভাঙতে আমেরিকা সম্ভাব্য প্রায় সব কৌশলই প্রয়োগ করেছে। কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন। তাঁর কথায়, ‘‘তারা যা যা করতে পারত, সবই করেছে। কিন্তু প্রত্যেক বার ব্যর্থ হয়েছে। মনে হচ্ছে, তারা আরও একটি পরাজয় বরণ করতে চাইছে।’’
নতুন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনাও তেহরানের কাছে মোটেই অপ্রত্যাশিত নয় বলে দাবি করেছেন ইরানের অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকা কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, তা আঁচ করেই বহু দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। ‘‘আমরা অনেক দিন ধরে এই পরিকল্পনাগুলির অপেক্ষায় ছিলাম। সরকার প্রস্তুত ছিল এবং এখনও প্রস্তুত। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য আমাদের দু’বছরের পরিকল্পনা রয়েছে,’’ বলেন তিনি।
তবে সেই ‘দু’বছরের পরিকল্পনা’ ঠিক কী, তার খুঁটিনাটি প্রকাশ করেননি মাদানিজাদেহ। তেল রফতানি, বৈদেশিক বাণিজ্য, মুদ্রার স্থিতিশীলতা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জোগান—কোন ক্ষেত্রে কী কৌশল নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনও স্পষ্ট রূপরেখা দেননি।
এ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। এ বার শুধু ইরানি ব্যক্তি বা সংস্থাকে নিশানা করেই থামতে চাইছে না আমেরিকা। ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞার জাল আরও বিস্তৃত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। অর্থাৎ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা অন্য দেশের সংস্থা, ব্যাঙ্ক, জাহাজ পরিবহণ সংস্থা কিংবা বাণিজ্যিক গোষ্ঠীগুলিও মার্কিন শাস্তির মুখে পড়তে পারে।
মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্টের বক্তব্য, ইরান সরকারের সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেনে যুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, দেশ বা সংস্থাকে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার পুরো শক্তির মুখোমুখি হতে হবে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য, ইরান সরকারের অর্থের জোগান কার্যত ‘শ্বাসরোধ’ করা এবং তেহরানের রাজস্বের প্রধান উৎসগুলিকে চাপে ফেলা।
কবে থেকে বা ঠিক কত দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য গুটিয়ে নিতে হবে, সে বিষয়ে অবশ্য নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি বেসেন্ট। তবে সতর্কবার্তা দিয়েছেন—আমেরিকার ধৈর্যেরও সীমা রয়েছে। এমনকি চীনের মতো শক্তিশালী দেশও এই নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে পুরোপুরি নিরাপদ নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, ‘‘কেউই এর ঊর্ধ্বে নয়।’’
এই হুঁশিয়ারি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ইরানের তেল বাণিজ্যের অন্যতম বড় ক্রেতা চীন। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তার প্রভাব শুধু তেহরানেই আটকে থাকবে না। আন্তর্জাতিক তেলবাজার, জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাতেও তার ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে।
তবে তেহরানের পাল্টা দাবি, বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরান বিকল্প বাণিজ্যপথ, আর্থিক ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। ফলে ওয়াশিংটনের নতুন চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে।
এখন আসল পরীক্ষা সেই অভিজ্ঞতারই। ইরানের ‘দু’বছরের পরিকল্পনা’ কি সত্যিই আমেরিকার অর্থনৈতিক চাপে ঢাল হয়ে দাঁড়াবে, নাকি নতুন নিষেধাজ্ঞা তেহরানের অর্থনীতিতে আরও বড় ধাক্কা দেবে—সেদিকেই নজর গোটা বিশ্বের।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



