সিএএ-তে ১০ শতাংশ, বাকি ৯০?

যা জানা জরুরি
- ২ লক্ষ ৩০ হাজার আবেদনের মধ্যে ২৩ হাজারের নাগরিকত্ব, দ্রুত শুনানির নির্দেশ; অন্নপূর্ণায় বৈষম্যের অভিযোগও নস্যাৎ নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) অধীনে…
- অর্থাৎ, মোট আবেদনের প্রায় ১০ শতাংশ নিষ্পত্তি হয়েছে।
- সোমবার নবান্নে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, জেলা শাসকদের মাধ্যমে দ্রুত শুনানি শেষ করে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
২ লক্ষ ৩০ হাজার আবেদনের মধ্যে ২৩ হাজারের নাগরিকত্ব, দ্রুত শুনানির নির্দেশ; অন্নপূর্ণায় বৈষম্যের অভিযোগও নস্যাৎ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) অধীনে পশ্চিমবঙ্গে জমা পড়া ২ লক্ষ ৩০ হাজার আবেদনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ২৩ হাজার আবেদনকারী নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন। অর্থাৎ, মোট আবেদনের প্রায় ১০ শতাংশ নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি ২ লক্ষ ৭ হাজার আবেদন এখনও বিবেচনাধীন। সোমবার নবান্নে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, জেলা শাসকদের মাধ্যমে দ্রুত শুনানি শেষ করে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়ায় জেলা শাসকদের দায়িত্ব বাড়িয়েছে কেন্দ্র। সেই ব্যবস্থাকেই কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চাইছে রাজ্য। শুভেন্দুর কথায়, “জেলা শাসকদের মাধ্যমে আমরা দ্রুত কাজ করব।” একই সঙ্গে তিনি জানান, এখনও যাঁরা আবেদন করেননি, তাঁরাও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে আসা হিন্দু উদ্বাস্তুদের আবেদন অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্বের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁদের আশ্বস্ত করে শুভেন্দুর দাবি, যোগ্য আবেদনকারীরা তাঁর সরকারের মাধ্যমেই নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাবেন।
২০১৯ সালের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। মুসলিম সম্প্রদায়কে এই আইনের আওতার বাইরে রাখার বিষয়টি অবশ্য আইনটি চালু হওয়ার পর থেকেই তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে।
এর আগে ১ আগস্ট শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, ছয় মাসের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত বিবেচনাধীন সিএএ আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে। তবে সোমবারের বৈঠকের পর নতুন করে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। ফলে ২ লক্ষেরও বেশি আবেদনের শুনানি কত দ্রুত শেষ হয়, এখন সেদিকেই নজর।
অন্নপূর্ণাতেও ‘বৈষম্য নেই’
অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা বণ্টন নিয়েও ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ যোগ্য মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় এসেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৯ লক্ষ ২০ হাজার মুসলিম পরিবারের মহিলা রয়েছেন। দার্জিলিং পাহাড়েও প্রায় এক লক্ষ যোগ্য মহিলা ইতিমধ্যেই আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
শুভেন্দুর স্পষ্ট বক্তব্য, “যোগ্য প্রত্যেক মহিলা টাকা পাবেন। আমরা কোনও ধর্মের মানুষের সঙ্গে বৈষম্য করি না।” বিভিন্ন জেলায় টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।
সরকারি হিসাবে, প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মহিলা আবেদন বা টাকা না পাওয়া নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ছিল, নির্বাচনের আগে মহিলাদের ভাতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ক্ষমতায় এসে সরকার নানা শর্ত ও নথিপত্রের জটিলতা তৈরি করেছে। ফলে বহু মহিলা প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সেই অভিযোগ অবশ্য খারিজ করে শুভেন্দুর দাবি, ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতাই ভাতা পাওয়ার একমাত্র মাপকাঠি।
নাগরিকত্বের গেরোয় ভাতা?
অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া, নাগরিকত্বের আবেদন অসম্পূর্ণ থাকা, মৃত ব্যক্তির নামে ভাতা চালু থাকা কিংবা একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন—এমন নানা কারণে বহু নাম বাদ পড়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
সরকারের বক্তব্য, নাগরিকত্বের আবেদন বা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আপিল বিচারাধীন থাকলে সংশ্লিষ্ট বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে সিএএ-র আবেদন নিষ্পত্তি এবং অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া কোথাও কোথাও কার্যত পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেতে দেরি হলে কোনও মহিলা সরকারি সহায়তা থেকে সাময়িকভাবে বঞ্চিত হবেন কি না। সরকারের আশ্বাস, যোগ্য কাউকে বঞ্চিত করা হবে না। কিন্তু ২ লক্ষ ৭ হাজার সিএএ আবেদন এবং প্রায় সাড়ে চার লক্ষ অভিযোগ কত দ্রুত মেটানো যায়, শেষ পর্যন্ত সেই প্রশাসনিক দক্ষতার উপরই নির্ভর করছে সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তব সাফল্য।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



