স্কুল দেখতে গিয়ে সংঘর্ষ, রাঙ্কা-সহ ৬০ সিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি-উপজাতি আইনে মামলা

যা জানা জরুরি
- রাজস্থানের জয়পুরে সরকারি স্কুল পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি কর্মীদের সঙ্গে গ্রামবাসীদের সংঘর্ষের ঘটনায় দু’পক্ষই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে।
- সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা এবং দলের ৫০ থেকে ৬০ জন কর্মীর বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও জনজাতির উপর অত্যাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে।
- পাল্টা অভিযোগ দায়ের করে সিজেপিও দাবি করেছে, তাদের প্রতিনিধিদলের উপর পরিকল্পিত ভাবে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
রাজস্থানের জয়পুরে সরকারি স্কুল পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি কর্মীদের সঙ্গে গ্রামবাসীদের সংঘর্ষের ঘটনায় দু’পক্ষই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে। সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা এবং দলের ৫০ থেকে ৬০ জন কর্মীর বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও জনজাতির উপর অত্যাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে। পাল্টা অভিযোগ দায়ের করে সিজেপিও দাবি করেছে, তাদের প্রতিনিধিদলের উপর পরিকল্পিত ভাবে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল।
২১ অগস্ট সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের অংশ হিসেবে রাঙ্কার নেতৃত্বে একটি দল জয়পুরের রামপুরা-কানওয়ারপুরা গ্রামের সরকারি স্কুল দেখতে যায়। সিজেপির দাবি, কয়েক বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ের পড়াশোনা চলছে একটি মোষের খাটালে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে এই খবর পেয়েই তারা সেখানে গিয়েছিল।
রামপুরা-কানওয়ারপুরার বাসিন্দা ভগবান সহায় ধানকারের অভিযোগের ভিত্তিতে রাঙ্কা ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি হয়েছে। ধানকারের দাবি, স্কুল পরিদর্শনের অজুহাতে গ্রামে ঢুকে সিজেপি কর্মীরা তাঁকে ও অন্য বাসিন্দাদের গালিগালাজ করেন। গ্রামের মহিলাদের সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। প্রতিবাদ করলে সিজেপি কর্মীরা মারধর শুরু করেন এবং জাত তুলে অপমান করেন বলেও তাঁর অভিযোগ। সংঘর্ষে কয়েক জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে স্বেচ্ছায় আঘাত করা, বেআইনি ভাবে পথ আটকানো, বেআইনি জমায়েত এবং শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে অপমান করার ধারার পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও জনজাতি অত্যাচার প্রতিরোধ আইনের তিনটি ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
সিজেপি কর্মী রেখা শর্মার দায়ের করা পাল্টা অভিযোগে অবশ্য সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, গ্রামের সীমানাতেই সিজেপির গাড়িগুলি আটকে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিনিধিরা পায়ে হেঁটে স্কুলের দিকে এগোতেই চারদিক থেকে ইট, লাঠি এবং পাথর ভরা নল নিয়ে তাঁদের উপর হামলা হয়। এক-এক জন সিজেপি কর্মীকে চার-পাঁচ জন ঘিরে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
সিজেপির দাবি, স্বেচ্ছাসেবক সুরেন্দ্র ওরফে সঞ্জু বর্মার হাত ভেঙেছে। সলমন নামে আর এক কর্মীর সারা শরীরে গুরুতর আঘাত রয়েছে। রেখা শর্মার চোখে ধুলো ছুড়ে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া ও মারধর করা হয়; তাঁর কাঁধেও চোট লেগেছে। প্রতিনিধিদলের গাড়ির কাচ ভেঙে ক্ষতি করা হয়েছে। হামলার দৃশ্য ভিডিয়োয় ধরা রয়েছে দাবি করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার আবেদন জানিয়েছে সিজেপি।
দু’টি মামলাই জয়পুর শহরের দক্ষিণ বিভাগের শিবদাসপুরা থানায় নথিভুক্ত হয়েছে। সিজেপির অভিযোগে আঘাত করা, পথ আটকানো, বেআইনি জমায়েত, সম্পত্তির ক্ষতি এবং শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে অপমানের ধারা দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যেই রবিবার যোধপুরের গান্ধী শান্তি প্রতিষ্ঠানে রাঙ্কার একটি শিক্ষাবিষয়ক আলোচনাসভা ঘিরেও উত্তেজনা ছড়ায়। “জয় শ্রীরাম” ও “ককরোচ গো ব্যাক” স্লোগান দিতে দিতে কয়েক জন সভাস্থলে ঢুকে পড়ে এবং বাইরে এক ব্যক্তিকে মারধর করে বলে অভিযোগ। পুলিশ ১১ জনকে আটক করেছে। তারা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা বিজেপির যুব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে কোনও কোনও মহলে দাবি উঠলেও পুলিশ জানিয়েছে, সেই যোগসূত্র এখনও প্রমাণিত নয়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



