ভারতে এইচ১এন১-র নতুন রূপ নেই, বর্তমান প্রতিষেধকই যথেষ্ট: আইসিএমআর

যা জানা জরুরি
- দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বাড়লেও ভারতে এইচ১এন১ ভাইরাসের কোনও নতুন রূপের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
- রবিবার এই কথা জানিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ বা আইসিএমআর।
- পরিষদের বিজ্ঞানীদের দাবি, বর্তমানে বাজারে থাকা ঋতুভিত্তিক প্রতিষেধকই সংক্রমণ ও গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমানোর পক্ষে যথেষ্ট কার্যকর।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বাড়লেও ভারতে এইচ১এন১ ভাইরাসের কোনও নতুন রূপের সন্ধান পাওয়া যায়নি। রবিবার এই কথা জানিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ বা আইসিএমআর। পরিষদের বিজ্ঞানীদের দাবি, বর্তমানে বাজারে থাকা ঋতুভিত্তিক প্রতিষেধকই সংক্রমণ ও গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমানোর পক্ষে যথেষ্ট কার্যকর।
আইসিএমআর জানিয়েছে, দেশে এখন যে ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে, সেটি ‘এ/মিসৌরি/১১/২০২৫ (এইচ১এন১) পিডিএম০৯’-এর অনুরূপ। এটি নতুন কোনও রূপ নয়; ২০২৫ সাল থেকেই এর সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। ভাইরাসটির জিনগত গঠনও চলতি বছরের উত্তর গোলার্ধের জন্য সুপারিশ করা প্রতিষেধকের উপাদানের সঙ্গে মেলে। ফলে নতুন প্রতিষেধক তৈরির প্রয়োজন নেই বলে বিজ্ঞানীদের
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাপী অতিমারি ঘটানো এইচ১এন১ এখন ঋতুভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে পরিণত হয়েছে। বর্ষা ও শীতকালে ভারতে এর সংক্রমণ সাধারণত বাড়ে। বদ্ধ জায়গায় ভিড়, আর্দ্রতা এবং আবহাওয়ার পরিবর্তন ভাইরাস ছড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির ক্ষুদ্র জলকণা কিংবা দূষিত হাত ও জিনিসপত্রের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
দিল্লিতে চলতি বছরে ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্তের সংখ্যা ২,৬০২-এ পৌঁছেছে; এর দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি এইচ১এন১ সংক্রমণ। কর্নাটকেও আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে শুধু বেঙ্গালুরুতেই দুই হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সেটি নতুন বা অধিক বিপজ্জনক ভাইরাসের প্রমাণ নয় বলে স্পষ্ট করেছে আইসিএমআর। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি নিজে থেকে সেরে যায়।
তবে শিশু, প্রবীণ, অন্তঃসত্ত্বা, হাঁপানি বা দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, হৃদ্রোগী, ডায়াবেটিস রোগী এবং যাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে জটিলতার আশঙ্কা বেশি। এই গোষ্ঠীর মানুষের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঋতুভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিষেধক নেওয়া উচিত।
সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, শুকনো কাশি, গলাব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া, মাথা ও গায়ে ব্যথা এবং প্রবল ক্লান্তি। শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, একটানা ভীষণ জ্বর কিংবা সাময়িক উন্নতির পরে ফের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
আইসিএমআর-এর পরামর্শ, কাশি বা হাঁচির সময় মুখ-নাক ঢাকতে হবে, নিয়মিত হাত ধুতে হবে এবং অসুস্থ অবস্থায় ভিড় এড়িয়ে বাড়িতে থাকতে হবে। সংক্রমণ বাড়লেও পরিস্থিতি নজরদারির মধ্যেই রয়েছে, তাই আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সতর্কতা ও সময়মতো চিকিৎসা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



