International

পড়শি হলেই শত্রু!

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে আমেরিকার নতুন অভিযানে কোনও প্রতিবেশী দেশ যোগ দিলে তাকেও ‘শত্রু’ হিসেবে দেখা হবে—সাফ হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের…
  • তাঁর বার্তা আরও কড়া: ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ বাড়ালে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা মার্কিন তেল ও বাণিজ্যিক স্বার্থেও আঘাত হানতে পারে তেহরান।
  • দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া প্রথম বিস্তারিত সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যে দেশগুলি যোগ দেবে, তাদের স্বার্থও ইরানের…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে আমেরিকার নতুন অভিযানে কোনও প্রতিবেশী দেশ যোগ দিলে তাকেও ‘শত্রু’ হিসেবে দেখা হবে—সাফ হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন প্রধান মহসেন রেজাই। তাঁর বার্তা আরও কড়া: ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ বাড়ালে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা মার্কিন তেল ও বাণিজ্যিক স্বার্থেও আঘাত হানতে পারে তেহরান।

দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া প্রথম বিস্তারিত সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যে দেশগুলি যোগ দেবে, তাদের স্বার্থও ইরানের নিশানায় চলে আসবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহণের জন্য যে বিকল্প পথ তৈরির পরিকল্পনা হচ্ছে, প্রয়োজন হলে সেগুলিতেও হামলা চালানো হতে পারে।

রেজাইয়ের কথায়, “আমাদের বিরুদ্ধে আমেরিকার অর্থনৈতিক যুদ্ধে যে প্রতিবেশীরা যোগ দেবে, তাদের শত্রু বলে গণ্য করা হবে। আমরা তাদের স্বার্থে আঘাত করব।”

তাঁর দাবি, চলতি সংঘাতে ইরান এখনও তার পূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত শক্তি ব্যবহার করেনি। এত দিন মূলত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিই ছিল ইরানের লক্ষ্য; আমেরিকার বাণিজ্যিক স্বার্থে সরাসরি হামলা চালানো হয়নি।

তবে পরিস্থিতি বদলালে সেই নীতি বদলাতেও সময় লাগবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন রেজাই। তাঁর বক্তব্য, ইরানের উপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানো হলে পশ্চিম এশিয়া-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা মার্কিন তেল সংস্থা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি পাল্টা হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

ইরান–ইরাক যুদ্ধের প্রায় পুরো সময়, ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত, রেজাই ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের প্রধান সেনাপতি ছিলেন। চলতি মাসেই তাঁকে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নেতৃত্বে আনা হয়েছে। তেহরানের শীর্ষ স্তরে সাম্প্রতিক একাধিক কড়া অবস্থানের সঙ্গে এই নিয়োগকেও ইরানের আরও আগ্রাসী নিরাপত্তা ও সামরিক নীতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।

রেজাইয়ের এই হুঁশিয়ারির পিছনে রয়েছে ইরানের অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন উদ্যোগ। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানকে সাহায্য করা বা তার সঙ্গে ব্যবসা করা যে কোনও দেশকে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’র মুখে পড়তে হবে। ইরানের অর্থের জোগান বন্ধ করতে মার্কিন অর্থ দপ্তর কয়েক মাস ধরেই ‘অপারেশন ইকনমিক ফিউরি’ চালাচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী ঘিরে নৌ-অবরোধের মাধ্যমে ইরানের তেল রফতানি থামানোর চাপও বাড়ছে।

ইজরায়েলের সঙ্গে যৌথ ভাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধ প্রায় ছ’মাসে গড়ালেও এখনও স্থায়ী সমাধানের কোনও লক্ষণ নেই। জুনে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সংঘাতের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেত। ফলে এই কৌশলগত জলপথ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন বিশেষ করে চিনকে ইরান-বিরোধী অর্থনৈতিক অভিযানে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু তেহরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগী বেজিং সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। চিনের বক্তব্য, একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের সমাধান করবে না, বরং সংকট আরও গভীর করতে পারে।

তবে ইরানের আর এক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যসঙ্গী সংযুক্ত আরব আমিরশাহি গত মঙ্গলবার তেহরানের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। রেজাই সরাসরি কোনও দেশের নাম না করলেও, তাঁর ‘শত্রু’ মন্তব্যের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য আমিরশাহি বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও তেতে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত দাবিও নতুন মাত্রা পেয়েছে। তিনি বারবার প্রণালীটিকে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলেছেন। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় এক সভায় ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি এখন হরমুজ প্রণালীকে ‘আমেরিকার ভূখণ্ড’ হিসেবেই দেখছেন। পরে নিজের সামাজিক মাধ্যমে উপসাগরের একটি মানচিত্র প্রকাশ করে প্রণালীটিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবেও চিহ্নিত করেন। তবে আন্তর্জাতিক আইনে এমন দাবির কোনও স্বীকৃতি নেই।

অন্য দিকে, হরমুজের উপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প তেল পরিবহণপথ তৈরির উদ্যোগও জোরদার হচ্ছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স এই নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের প্যারিস সফরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাকরঁর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। পরিকল্পনায় রয়েছে উপসাগরের বাইরে ওমানি বন্দরগুলির ব্যবহার বাড়ানো, সৌদি আরব-সহ বিভিন্ন দেশের তেলবাহী নলের ক্ষমতা দ্বিগুণ করা এবং নতুন রেলপথ গড়ে তোলা।

পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহণের বিকল্প সংযোগ গড়ে তুলতে ফ্রান্স ও সৌদি আরব ইতিমধ্যেই একটি যৌথ কর্মগোষ্ঠী তৈরি করেছে। কিন্তু রেজাইয়ের হুঁশিয়ারি বুঝিয়ে দিচ্ছে, হরমুজকে পাশ কাটানোর এই প্রকল্পগুলি ইরানের চোখে আর নিছক অর্থনৈতিক পরিকাঠামো নয়। তেহরান যদি এগুলিকে আমেরিকার বৃহত্তর চাপের অংশ হিসেবে দেখে, তা হলে যুদ্ধের উত্তাপ নতুন ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles