গাজায় ত্রাণবাহী গাড়িবহরে ইজরায়েলি হামলায় সাত জন মানবিক সহায়তাকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত না-করার সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ বলে তীব্র নিন্দা করল ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। শুক্রবার তিন দেশের বিদেশমন্ত্রক এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, নিহত ত্রাণকর্মী ও তাঁদের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। জবাবদিহি নিশ্চিত না-হওয়া পর্যন্ত তারা ইজরায়েলের কাছে উত্তর চাইতে থাকবে।

২০২৪ সালের ১ এপ্রিল গাজায় অসামরিক নাগরিকদের জন্য খাদ্য পৌঁছে দিচ্ছিল আমেরিকাভিত্তিক ত্রাণ সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের একটি গাড়িবহর। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরপর ড্রোন হামলায় সংস্থাটির সাত কর্মী নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তিন ব্রিটিশ নাগরিক জন চ্যাপম্যান, জেমস হেন্ডারসন ও জেমস কার্বি; অস্ট্রেলিয়ার লালজাওমি ‘জোমি’ ফ্র্যাঙ্ককম; পোল্যান্ডের ড্যামিয়ান সোবোল; এক কানাডীয়-আমেরিকান এবং এক প্যালেস্তিনীয় কর্মী।

ঘটনার পর ইজরায়েলি সেনাবাহিনী এটিকে ‘গুরুতর ভুল ও ব্যর্থতা’ বলে স্বীকার করেছিল। কিন্তু দু’বছরেরও বেশি সময় পরে, গত ১৯ আগস্ট তারা জানায়—কোনও সেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত চালানো হবে না। তিন দেশের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের পক্ষে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যাও দেয়নি ইজরায়েল।

যৌথ বলা হয়েছে, ‘‘ব্যাখ্যা ছাড়াই তদন্ত না-করার এই সিদ্ধান্ত লজ্জাজনক। বিশ্ব মানবিক সহায়তা দিবসে, যখন ত্রাণকর্মীদের সাহস ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানানো হচ্ছিল, ঠিক সেই সময় সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করা আরও আপত্তিকর। এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সামান্য এবং অনেক দেরিতে নেওয়া।’’

অস্ট্রেলিয়া আলাদাভাবে ইজরায়েলের সিদ্ধান্তে ‘ক্ষোভ’ প্রকাশ করেছে। ফ্র্যাঙ্ককমের পরিবার বলেছে, একটি অস্বচ্ছ অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার শেষে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়ে সেনাদের দায়মুক্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। পোল্যান্ডও গভীর হতাশা জানিয়ে তাদের নিজস্ব তদন্তে ইজরায়েলের পূর্ণ সহযোগিতা দাবি করেছে।

ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, গাড়িগুলিতে হামাসের সশস্ত্র সদস্য রয়েছেন বলে ভুল ধারণা হয়েছিল এবং গাড়িবহরটি পূর্বনির্ধারিত পথ থেকে সরে গিয়েছিল। তবে তাদের সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট সেনা আধিকারিকদের কাজে ফৌজদারি অপরাধের ‘যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ’ পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর দুই আধিকারিককে পদ থেকে সরানো এবং আরও তিন জনকে তিরস্কার করা হয়েছিল।

ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের বক্তব্য, গাড়িগুলির যাত্রাপথ আগে থেকেই ইজরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল এবং ছাদে সংস্থার প্রতীক স্পষ্ট ছিল। ফলে হামলার কোনও যুক্তি বা অজুহাত থাকতে পারে না। তিন দেশও মনে করিয়েছে, ২০২৫ সালেই গাজায় ১৮৬ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইজরায়েলকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।