International

জাকারবার্গ কি মিথ্যা বলেছেন?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • শিশু সুরক্ষায় মেটার গাফিলতির অভিযোগ, আদালতে বিস্ফোরক সাক্ষ্য প্রাক্তন নিরাপত্তা প্রকৌশলীর ওকল্যান্ড: শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক সংস্থা মেটা কার্যত ‘দেখব না,…
  • তাঁর দাবি, শিশুদের উপর মেটার বিভিন্ন পরিষেবার সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে সংস্থার শীর্ষ কর্তারা জানতেন।
  • কিন্তু সেই ঝুঁকি কমাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

শিশু সুরক্ষায় মেটার গাফিলতির অভিযোগ, আদালতে বিস্ফোরক সাক্ষ্য প্রাক্তন নিরাপত্তা প্রকৌশলীর

ওকল্যান্ড: শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক সংস্থা মেটা কার্যত ‘দেখব না, বলব না’ নীতি নিয়েছিল—আমেরিকায় সংস্থাটির বিরুদ্ধে চলা এক ঐতিহাসিক মামলায় এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মেটার প্রাক্তন নিরাপত্তা প্রকৌশলী আর্তুরো বেহার। তাঁর দাবি, শিশুদের উপর মেটার বিভিন্ন পরিষেবার সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে সংস্থার শীর্ষ কর্তারা জানতেন। কিন্তু সেই ঝুঁকি কমাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের একটি কেন্দ্রীয় আদালতে মঙ্গলবার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে আমেরিকার ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর। অভিযোগ, শিশু-কিশোরদের আকৃষ্ট করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখার লক্ষ্যেই মেটা তার সামাজিক মাধ্যমগুলির নকশা তৈরি করেছে। এর ফলে বহু ব্যবহারকারী মানসিক ও শারীরিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ। অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়াই ১৩ বছরের কম বয়সি শিশুদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে।

বাদীপক্ষের প্রথম সাক্ষী ছিলেন বেহার। আদালতে তিনি জানান, শিশুদের কাছে যৌন শিকারিদের পাঠানো বিষয়বস্তু পৌঁছে যাওয়া থেকে শুরু করে হিংসাত্মক ও বীভৎস ছবি দেখানো—মেটার সুপারিশব্যবস্থা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তিনি পেয়েছিলেন। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বেশ কয়েক জন উচ্চপদস্থ কর্তাকেও বিষয়গুলি জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি।

বেহারের বক্তব্য, কাজের সূত্রে নিয়মিত মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা সম্পর্কে জানাতে হত তাঁকে। তাঁর অনুমান, অন্তত ১০০ বার জাকারবার্গের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। ২০২১ সালে পাঠানো একটি ই-মেলেও তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, ফেসবুকে ক্ষতিকর বিষয়বস্তু নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে অভিযোগ আসছে।

জাকারবার্গ প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, মেটা নিরাপত্তার তুলনায় মুনাফাকে বেশি গুরুত্ব দেয় না। সেই বক্তব্যের পরেই তাঁকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন বেহার। আদালতে তাঁর বক্তব্য, “আমার মনে হয়েছিল, তরুণ ব্যবহারকারীদের প্রতি ফেসবুকের দায়বদ্ধতা সম্পর্কে তিনি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করেছেন।”

মামলার প্রারম্ভিক বক্তব্যে ক্যালিফোর্নিয়ার উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল মেগান ও’নিল বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ রক্ষা করা সবার যৌথ দায়িত্ব। কিন্তু মেটা সেই দায়িত্ব পালন করেনি। মামলায় জাকারবার্গ, ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি এবং সংস্থার অন্যান্য কর্তাদের পাশাপাশি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক মাধ্যম-আসক্তি নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদেরও সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়া অন্তত ছয় সপ্তাহ চলতে পারে।

মেটা অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থার আইনজীবী পল শ্মিটের দাবি, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সমস্যা তৈরি হতে পারে—এ কথা অস্বীকার করা হচ্ছে না। তবে সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় মেটা একাধিক সুরক্ষাব্যবস্থা চালু করেছে। তাঁর বক্তব্য, মেটা ১৩ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দেয় না এবং এমন ১০ লক্ষেরও বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে।

তবে মামলার ফল মেটার জন্য বড় আর্থিক ও ব্যবসায়িক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দোষী সাব্যস্ত হলে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ২০ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। তার থেকেও বড় ধাক্কা আসতে পারে পরিষেবার নকশা বদলের নির্দেশে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যদি মেটাকে তার প্ল্যাটফর্মের মূল কাঠামোতেই পরিবর্তন আনতে হয়, তা হলে সংস্থার ব্যবসায়িক মডেলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

আদালতে তাই শুধু মেটার অতীত সিদ্ধান্তের বিচার হচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রকাশ্যে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আর সংস্থার ভিতরের বাস্তব পদক্ষেপ—দুটির মধ্যে কতটা ফারাক ছিল।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles