আগে এনআরসি, পরে গণনা

যা জানা জরুরি
- ৪৮ ঘণ্টার বন্ধে থমকাল উপত্যকা, এ বার সরকারি প্রতিষ্ঠান বয়কটের ডাক ইম্ফল: ২০২৭ সালের জনগণনার আগে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি হালনাগাদের দাবিতে মণিপুরে আন্দোলন…
- মেইতেই সংগঠন ‘ক্যাম্পেন ফর জাস্ট অ্যান্ড ফেয়ার ডিলিমিটেশন’ বা জেএফডি-র ডাকা ৪৮ ঘণ্টার বন্ধ বুধবার শেষ হয়েছে।
- এ বার বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত প্রতিষ্ঠান বয়কটের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
৪৮ ঘণ্টার বন্ধে থমকাল উপত্যকা, এ বার সরকারি প্রতিষ্ঠান বয়কটের ডাক
ইম্ফল: ২০২৭ সালের জনগণনার আগে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি হালনাগাদের দাবিতে মণিপুরে আন্দোলন আরও তীব্র হল। মেইতেই সংগঠন ‘ক্যাম্পেন ফর জাস্ট অ্যান্ড ফেয়ার ডিলিমিটেশন’ বা জেএফডি-র ডাকা ৪৮ ঘণ্টার বন্ধ বুধবার শেষ হয়েছে। এ বার বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত প্রতিষ্ঠান বয়কটের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। তবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানীয় জল ও বিদ্যুতের মতো জরুরি পরিষেবাকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
বন্ধের দ্বিতীয় দিনে ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম, থৌবাল, কাকচিং এবং বিষ্ণুপুর-সহ উপত্যকার একাধিক জেলা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। বন্ধ ছিল অধিকাংশ বাজার, দোকান ও জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্র। সরকারি দফতরেও উপস্থিতি ছিল হাতে গোনা। রাস্তায় গণপরিবহণ প্রায় না থাকায় দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। খোয়াইরামবন্দ ইমা বাজার, পাওনা বাজার ও থাঙ্গাল বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রেও কার্যত ঝাঁপ বন্ধ ছিল।
আন্দোলনের আঁচ পড়ে রাস্তাতেও। বিভিন্ন জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুঁড়ি, পাথর-সহ নানা প্রতিবন্ধক ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেন বিক্ষোভকারীরা। ইম্ফল–উখরুল এবং ইম্ফল–টিডিম সড়কের একাধিক অংশ অবরুদ্ধ হয়। লামলং বাজার ও কোয়াকেইথেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর ধস্তাধস্তিও হয়। লামলংয়ে অবরোধ সরাতে গেলে এক যুবক আহত হন বলে অভিযোগ। পরে মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কোন্থৌজামের কুশপুতুলও পোড়ানো হয়।
কেন এত জোরালো এই দাবি? জেএফডি-র যুক্তি, এনআরসি হালনাগাদ না করে জনগণনা করা হলে প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা নথিহীন অভিবাসীরাও সরকারি জনসংখ্যার হিসাবের অংশ হয়ে যেতে পারেন। এর প্রভাব পড়তে পারে ভবিষ্যতের নির্বাচনী কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসে। সংগঠনটির আশঙ্কা, এতে মণিপুরের আদি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অধিকার আরও দুর্বল হবে।
জেএফডি-র সম্পাদক লংজাম রতনকুমার সিংহ জানিয়েছেন, আন্দোলন শুধু বন্ধেই থামছে না। দিনে গণ-অবস্থান এবং রাতে মশাল মিছিল চলবে। সাধারণ মানুষকে তাঁদের এলাকার জনপ্রতিনিধিদের কাছেও এনআরসি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানাতে বলা হয়েছে।
তবে এনআরসি-র দাবি মণিপুরের পুরনো জাতিগত বিভাজনকেও ফের সামনে এনে দিয়েছে। মেইতেই সংগঠনগুলির বক্তব্য, ১৯৫১ সালের পরে আসা নথিহীন অভিবাসীদের চিহ্নিত করা জরুরি। পাল্টা কুকি সংগঠনগুলির অভিযোগ, এই দাবির আড়ালে গোটা কুকি জনগোষ্ঠীকেই ‘বহিরাগত’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
এনআরসি নিয়ে মণিপুর বিধানসভাতেও আগেই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ২০২২ সালের আগস্টে জনগণনার আগে নাগরিকপঞ্জির দাবি জানিয়ে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাশ হয়। ২০২৪ সালের মার্চে সেই অবস্থান ফের পুনর্ব্যক্ত করে বিধানসভা। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য রাজ্য সরকারের একটি প্রতিনিধিদল দিল্লি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এর মধ্যেই সামনে এসে দাঁড়িয়েছে জনগণনা-২০২৭-এর সময়সীমা। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মণিপুরে গৃহতালিকা তৈরির কাজ ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা। তার আগে ১৭ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে স্ব-গণনার পর্ব। কিন্তু আন্দোলনের প্রভাব ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে পড়েছে। কোথাও জনগণনাকর্মীদের প্রশিক্ষণ ব্যাহত হয়েছে, কোথাও তা বাতিলও করতে হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়েই জনগণনার প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



