যোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর প্রশাসনিক ও আর্থিক ত্রুটির সন্ধান পেয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিশেষ তদন্তকারী দল। অনুদান গ্রহণের সময় দেওয়া রসিদের হিসাবের সঙ্গে ব্যাঙ্কে জমা পড়া টাকার পূর্ণ মিল পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মন্দির পরিচালনাকারী শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং প্রাক্তন সদস্য অনিল মিশ্রের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ভাবে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলেনি।

তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দলটি ১৩ জুন গঠন করেছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। ২০ জুলাই অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেওয়ার পরে সোমবার সন্ধ্যায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন রাজ্য সরকার এবং মন্দির ট্রাস্টের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুদান সংগ্রহ ও ব্যাঙ্কে জমা করার প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নজরদারি ছিল না। পেশাদার আর্থিক ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত হিসাব মেলানো এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার ব্যবস্থাও ছিল অপর্যাপ্ত। প্রধান ব্যাঙ্ক হিসাবে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।অনুদানের রসিদ ও জমা হওয়া অর্থ নিয়মিত ভাবে মিলিয়ে দেখার কোনও শক্তিশালী ব্যবস্থা ছিল না।

তদন্তকারীদের দাবি, চম্পত রাইয়ের প্রাক্তন সহযোগী ও গাড়িচালক রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদব অনুদানের টাকা সরানোর চক্রের মূল মাথা। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত আট জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, স্থানীয় অনুদান সংগ্রহকারী কয়েক জন স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে নগদ টাকা ও চেক ট্রাস্টের নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক হিসাবে পৌঁছনোর আগেই অভিযুক্তেরা সেগুলির একাংশ সরিয়ে নিত।

তদন্তে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের লেনদেন, সম্পত্তি কেনাবেচা এবং বিনিয়োগের নথি পরীক্ষা করা হয়েছে। অভিযোগ, সরিয়ে নেওয়া অর্থ অযোধ্যা ও সংলগ্ন জেলায় জমি, বাণিজ্যিক সম্পত্তি এবং ব্যক্তিগত ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়। টাকা ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য কয়েকটি ভুয়ো সংস্থা ও একাধিক ব্যাঙ্ক হিসাব ব্যবহারের তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে।

মন্দিরে রাখা বিভিন্ন দানপাত্রের অর্থ গণনার আগে একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলা হত বলেও তদন্তে জানা গিয়েছে। ফলে কোন দানপাত্র থেকে কত অর্থ এসেছে, তা আলাদা ভাবে যাচাই করার সুযোগ থাকত না। অনুদান সংগ্রহকারীদের জন্য কোনও নির্দিষ্ট কার্যবিধি বা পৃথক অর্থ ও নিয়মপালন বিভাগও ছিল না।

বিশেষ তদন্তকারী দলটি ট্রাস্টকে পেশাদার হিসাবরক্ষক ও নিরীক্ষক নিয়োগ, পৃথক অর্থ বিভাগ তৈরি এবং অনুদান সংগ্রহ থেকে ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছ নথি সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে। ইতিমধ্যে অনুদান গণনার কাজে যুক্ত ৩৬ জনকে সরিয়ে নিয়মিত এসবিআই কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই তদন্ত এখানেই শেষ নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত পৃথক বিশেষ তদন্তকারী দল এখনও অভিযোগগুলির অনুসন্ধান চালাচ্ছে।