শান্তির পথে বোমার হুমকি

যা জানা জরুরি
- ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর পথে ওমান বাধা হয়ে দাঁড়ালে দেশটির উপর হামলা চালানোর হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওমান যদি আমেরিকার প্রচেষ্টায় বাধা দেয়, তা হলে তাদের উপর ‘ভয়াবহ বোমাবর্ষণ’ করা হবে।
- ইরান যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী এবং দীর্ঘদিনের মার্কিন কৌশলগত অংশীদার ওমানকে নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্যে উপসাগরীয় কূটনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর পথে ওমান বাধা হয়ে দাঁড়ালে দেশটির উপর হামলা চালানোর হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওমান যদি আমেরিকার প্রচেষ্টায় বাধা দেয়, তা হলে তাদের উপর ‘ভয়াবহ বোমাবর্ষণ’ করা হবে। ইরান যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী এবং দীর্ঘদিনের মার্কিন কৌশলগত অংশীদার ওমানকে নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্যে উপসাগরীয় কূটনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ওমান ইরান-আমেরিকা সংঘাতের কোনও পক্ষ নয়। বরং বহু বছর ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান এবং আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করেছে মাস্কাট। বন্দিবিনিময় থেকে পরমাণু কর্মসূচি—একাধিক স্পর্শকাতর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করেছে ওমান। ফলে সেই দেশকেই সামরিক হামলার হুমকি দেওয়া ট্রাম্পের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
ইরানের সঙ্গে সমঝোতার জন্য আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে তৈরি হওয়া ৬০ দিনের সমঝোতার সময়সীমাও সোমবার শেষ হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে কোনও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হয়নি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনা থমকে যাওয়ার মধ্যে ইরান আরও আক্রমণাত্মক সামরিক অবস্থানে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আর ওয়াশিংটনও বর্তমান সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়েছে।
ট্রাম্প অবশ্য যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না। একই সঙ্গে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়াকেই নিজের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু এক দিকে আলোচনার কথা, অন্য দিকে ‘আত্মসমর্পণ’-এর দাবি এবং তৃতীয় দিকে মধ্যস্থতাকারী দেশকে বোমা মারার হুমকি—এই তিনটি অবস্থান একসঙ্গে কী ভাবে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলবে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে হরমুজ প্রণালীও। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহণ হয়। ইরান ও ওমান সম্প্রতি প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনায় বসেছে। ফলে তেহরান-মাস্কাটের এই উদ্যোগকে ওয়াশিংটন কী ভাবে দেখছে, তা এখন সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
এ দিকে পশ্চিম এশিয়ার অন্য প্রান্তেও শান্তির উদ্যোগ ধাক্কা খাচ্ছে। গাজা যুদ্ধ থামানোর মার্কিন প্রচেষ্টা নিয়ে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থনপুষ্ট শান্তি-পরিকল্পনা নিয়ে ইজরায়েলের আপত্তি এখনও কাটেনি।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আমেরিকার অস্ত্রভান্ডার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, সংঘাতে ব্যবহৃত অস্ত্রের পরিমাণ আমেরিকার সামরিক সামর্থ্যের তুলনায় এখনও সামান্য। তাঁর আরও দাবি, তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেন ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র দেওয়ায় আমেরিকার হাতে কিছু অস্ত্রের মজুত কমেছে। অন্য দিকে, যুদ্ধের দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের ফলে মজুত নিয়ে উদ্বেগের কথা আগেই জানিয়েছিলেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞেরা।
এই পরিস্থিতিতে তেলের বাজারেও অস্থিরতা বেড়েছে। সোমবার পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক তেলের দাম বেড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দিন শেষে ব্যারেলপ্রতি ৯০.৮৭ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ৮৪.৫০ ডলারে পৌঁছয়।
ট্রাম্পের দাবি, তাঁর মূল লক্ষ্য ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে না দেওয়া। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণে যুদ্ধের পাশাপাশি আলোচনা চালাতে গিয়ে যদি মধ্যস্থতাকারী ওমানকেও প্রকাশ্যে হুমকি দিতে হয়, তা হলে শান্তির পথ আরও জটিল হয়ে উঠছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন সামনে।
শান্তির বার্তা দিতে গিয়ে যদি মধ্যস্থতাকারীকেই বোমার হুমকি দেওয়া হয়, তবে যুদ্ধ থামানোর কূটনীতি ঠিক কোন পথে এগোচ্ছে—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



