International

শকে বশে অভিবাসী!

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • অভিবাসনবিরোধী অভিযানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই আরও কড়া পদক্ষেপের পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
  • প্রতিরোধকারী বা ‘অসহযোগী’ অভিবাসীদের দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (ICE) আধিকারিকদের জন্য বিদ্যুৎ-শক দিতে সক্ষম বিশেষ দস্তানা কেনার পরিকল্পনা করা…
  • কয়েক হাজার দস্তানা কিনতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার খরচ হতে পারে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

অভিবাসনবিরোধী অভিযানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই আরও কড়া পদক্ষেপের পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রতিরোধকারী বা ‘অসহযোগী’ অভিবাসীদের দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (ICE) আধিকারিকদের জন্য বিদ্যুৎ-শক দিতে সক্ষম বিশেষ দস্তানা কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কয়েক হাজার দস্তানা কিনতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার খরচ হতে পারে।

সোমবার মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দফতর প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী মার্চের মধ্যে ‘পরিবাহী বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা প্রশমনকারী যন্ত্র’ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রে থাকা দস্তানাটির নাম ‘গ্লাভ’—পুরো নাম Generated Low Output Voltage Emitter। কেন্টাকির লেক্সিংটনের কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস সংস্থার তৈরি এই দস্তানা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কয়েকটি কারাগার ও পুলিশ বিভাগও ব্যবহার করেছে।

দেখতে সাধারণ, কাজটা ভয়ংকর

দেখতে এটি সাধারণ টহলদারি দস্তানার মতোই। কিন্তু একটি বোতাম চাপলেই সক্রিয় হয়ে যায় এর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা। কারও খোলা ত্বকে দস্তানাটি ছোঁয়ানো হলে তীব্র যন্ত্রণাদায়ক বৈদ্যুতিক শক লাগে। নির্মাতা সংস্থার দাবি, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

আটক অবস্থায় মৃত্যু প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি জন পিটার্স এই শকের অনুভূতিকে মৌমাছির হুল ফোটার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, কোনও ব্যক্তি শারীরিক প্রতিরোধ করলে তাঁকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে এই দস্তানা কার্যকর হতে পারে।

গাড়ি বা বাড়ি থেকে কাউকে বের করে আনা, আটক করা কিংবা বন্দিশালায় নিয়ে যাওয়ার সময়ও এটি ব্যবহার করা হতে পারে। বিশেষ করে তুলনায় কম শক্তিশালী, বয়স্ক বা ছোটখাটো চেহারার আধিকারিকদের জন্য এটি সুবিধাজনক হতে পারে বলে দাবি পিটার্সের।

‘বোতাম টিপেই শক!’ উদ্বিগ্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন

পরিকল্পনাটি সামনে আসতেই তীব্র আপত্তি জানিয়েছে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলি। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের পুলিশ বিষয়ক বিভাগের উপ-প্রকল্প অধিকর্তা জেন রলনিক বোরচেট প্রশ্ন তুলেছেন, দেওয়ানি অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এমন যন্ত্রণাদায়ক অস্ত্রের আদৌ প্রয়োজন আছে কি না।

তাঁর অভিযোগ, গত এক বছরে অভিবাসন আধিকারিকদের বিরুদ্ধে একাধিক বার অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে এমন একটি যন্ত্র হাতে এলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাঁর আশঙ্কা, আধিকারিকের হাতে থাকা একটি অদৃশ্য বোতামের মাধ্যমে কাউকে বিদ্যুৎ-শক দেওয়া হলেও তা সাধারণ মানুষের নজরে নাও আসতে পারে।

নির্দেশিকায় কড়া নিষেধাজ্ঞা

অবশ্য নির্মাতা সংস্থার নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, শাস্তি দেওয়ার জন্য এই দস্তানা ব্যবহার করা যাবে না। শুধুমাত্র মৌখিক প্রতিবাদ, উত্তেজিত আচরণ বা অসহযোগিতার কারণেও কাউকে শক দেওয়া নিষিদ্ধ।

শিশু, অন্তঃসত্ত্বা, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই যন্ত্র ব্যবহার না করার সতর্কতা রয়েছে।

তবে নিয়ম থাকলেই অপব্যবহার বন্ধ হবে কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে।

পিটার্সও স্বীকার করেছেন, অন্যান্য পুলিশি প্রযুক্তির মতো এই দস্তানারও অপব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কঠোর ব্যবহারবিধি, নজরদারি এবং প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নির্মাতার নিয়ম অনুযায়ী, দস্তানা ব্যবহারের আগে আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এমনকি প্রতি দু’বছর অন্তর যোগ্যতা পুনর্নবীকরণ করানোর কথাও বলা হয়েছে।

কিন্তু সমালোচকদের আশঙ্কা, কার্যকর জবাবদিহি ও নজরদারি না থাকলে ‘দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার’ এই প্রযুক্তি খুব সহজেই নির্যাতনের নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। অভিবাসন অভিযান ঘিরে যখন বলপ্রয়োগের মাত্রা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, তখন আধিকারিকদের হাতে এমন শক-দস্তানা দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই বিতর্ককেই আরও উসকে দিল।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles