বাংলাস্ফিয়ার: ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে ধীরে ধীরে যে বরফ গলছে, তার মধ্যেই সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। একই সময়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের আলোচনার জন্য ঢাকায় রয়েছেন ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং বা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন।

এই দুই ঘটনাকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চলতি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দু’দেশের সম্পর্কে যে তীব্র টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, তার পরে গত কয়েক মাসে নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা স্তরে যোগাযোগ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর এই যোগাযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তবে আলোচনায় সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলির অন্যতম ছিল ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। ঢাকা ইতিমধ্যেই হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি জানিয়েছে। তারেক রহমানের সরকার এই প্রশ্নে নয়াদিল্লির কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া প্রত্যাশা করছে। সোমবারের বৈঠকেও বিষয়টি তোলা হয়। অন্য একটি প্রকাশিত প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, রহমান ত্রিবেদীর কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গ তুলেছেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ক্ষতি করতে পারে এমন পদক্ষেপ এড়ানোর কথা বলেছেন।

অন্য দিকে, একই সময়ে ‘র’-প্রধান পরাগ জৈনের ঢাকা সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর সফরের মূল লক্ষ্য দু’দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা। সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থা মোকাবিলা, সীমান্তপারের অপরাধ এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা-উদ্বেগের মতো বিষয় আলোচনায় রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নিরাপত্তা স্তরে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে নয়াদিল্লি। এর আগে বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ আধিকারিক ভারত সফরে এসে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং ‘র’-প্রধান পরাগ জৈনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এবার ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের ঢাকা সফর সেই প্রক্রিয়াকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।

সব মিলিয়ে একই সময়ে দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে তারেক রহমানের রাজনৈতিক-কূটনৈতিক বৈঠক এবং পরাগ জৈনের নিরাপত্তা আলোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, নয়াদিল্লি ও ঢাকা এখন একাধিক স্তরে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি—এই তিনটি স্পর্শকাতর প্রশ্ন আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।