বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (Foreign Contribution Regulation Act বা FCRA)-এর প্রস্তাবিত সংশোধনী বিল আগামী ১২ অগাস্ট লোকসভায় আলোচনা ও বিবেচনার জন্য তোলা হতে পারে বলে সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে। বিলটি ঘিরে দেশের বিভিন্ন খ্রিস্টান সংগঠন ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির উদ্বেগের মধ্যেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা। তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল বিলের বিভিন্ন ধারায় পরিবর্তনের দাবিতে একটি স্মারকলিপি শাহের হাতে তুলে দেয়।
বৈঠকের পর লালদুহোমা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন যে প্রস্তাবিত সংশোধনী আইন কার্যকর হলেও তা অতীতের (retrospective) ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে না। অর্থাৎ, আইন কার্যকর হওয়ার আগে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন বিধান প্রযোজ্য হবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই আশ্বাস তাঁদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ দূর করেছে।
তবে মিজোরাম সরকার স্পষ্ট করেছে, শুধুমাত্র এই আশ্বাসে তাদের সব আপত্তি দূর হয়নি। স্মারকলিপিতে বিলের একাধিক ধারা পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে চার্চ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনগুলির ওপর নতুন বিধিনিষেধের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
গত মাসেই মিজোরাম সরকার রাজ্যের শীর্ষ দুই চার্চ সংগঠন—মিজোরাম কোহরান হ্রুয়াইতুতে কমিটি (MKHC) এবং কাউন্সিল অব চার্চেস ইন মিজোরাম (CCM)-এর সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, বিলের বর্তমান খসড়া গ্রহণযোগ্য নয়। সেই বৈঠকেই কেন্দ্রের কাছে সংশোধনের সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় এবং মুখ্যমন্ত্রীকে অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মিজোরামের শাসক দল জোরাম পিপলস মুভমেন্ট (ZPM) আগেই জানিয়েছে, রাজ্যের প্রস্তাবগুলি কেন্দ্র গ্রহণ না করলে তাদের লোকসভা সদস্য সংসদে বিলটির বিরোধিতা করবেন। মুখ্যমন্ত্রীও একই অবস্থানের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।
প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলটি চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনেই পাশ করাতে আগ্রহী কেন্দ্র। সরকারি সূত্রের দাবি, নতুন আইনের উদ্দেশ্য কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করা নয়; বরং বিদেশি অর্থের ব্যবহার আরও স্বচ্ছ করা, আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সম্পদের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে স্পষ্ট কাঠামো তৈরি করা এবং নজরদারি জোরদার করা।
অন্যদিকে, বিরোধী দল ও বিভিন্ন চার্চ সংগঠনের অভিযোগ, বিলের কিছু বিধান স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলির কাজকে কঠিন করে তুলতে পারে। তাদের আশঙ্কা, বিদেশি অনুদান পাওয়া ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
সংসদের চলতি অধিবেশন এখনও বিরোধীদের বিক্ষোভে বারবার অচল হয়েছে। সীমা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) ইস্যুর পাশাপাশি এফসিআরএ সংশোধনী বিলও রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সংসদীয় বিষয়ক মহলে ধারণা, ১২ অগাস্ট বিলটি আলোচনায় এলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই সরকারের অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে পারেন।
এদিকে, মিজোরামের বিভিন্ন চার্চ সংগঠনও বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ১১ অগাস্ট প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। ফলে সংসদে বিল নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।