Home সংস্কৃতি ও বিনোদন ‘রান’-ই বদলে দিয়েছিল সব! রোম্যান্টিক নায়ক থেকে অ্যাকশন হিরো হয়ে ওঠার গল্প শোনালেন আর মাধবন

‘রান’-ই বদলে দিয়েছিল সব! রোম্যান্টিক নায়ক থেকে অ্যাকশন হিরো হয়ে ওঠার গল্প শোনালেন আর মাধবন

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
16 views 2 minutes read
A+A-
Reset

২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া রান শুধু তামিল সিনেমার একটি সুপারহিট ছবিই নয়, আর মাধবনের অভিনয়জীবনেরও এক ঐতিহাসিক মোড়। সেই ছবির আগে তিনি মূলত রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু রান-এর পর দর্শকের চোখে তাঁর নতুন পরিচয় তৈরি হয়—একজন বিশ্বাসযোগ্য অ্যাকশন হিরো। সম্প্রতি দ্য হিন্দু-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই পরিবর্তনের গল্পই শোনালেন অভিনেতা।

‘এই ছবিই আমার কেরিয়ার বদলে দিয়েছিল’

মাধবনের কথায়, “রান আমার কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। এত দিন সবাই আমাকে প্রেমের গল্পের নায়ক হিসেবেই দেখেছেন। কেউ ভাবেননি, আমি অ্যাকশনও করতে পারি। কিন্তু ছবির সাবওয়ে দৃশ্য মুক্তির পর শুধু ছবির নয়, আমার কেরিয়ারেরও মোড় ঘুরে যায়। মানুষ বুঝতে শুরু করেন, আমি শুধু রোম্যান্স নয়, অ্যাকশনও করতে পারি।”

তিনি পরিচালক এন. লিঙ্গুসামির প্রশংসা করে বলেন, “ওঁর ভিশন অসাধারণ ছিল। প্রথম অ্যাকশন দৃশ্যটা তিনি যেভাবে মুখে বর্ণনা করেছিলেন, পর্দায় ঠিক সেভাবেই ফুটে উঠেছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘প্রথম ঘুষিটাই এমন হবে, যেন লোকটা মৃত ইঁদুরের মতো ছিটকে পড়ে।’ শেষ পর্যন্ত দৃশ্যটাও ঠিক তেমনই হয়েছে।”

মণিরত্নমও নাকি নতুন চোখে দেখেছিলেন

রান-এর বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক মণিরত্নম ও গৌতম বাসুদেব মেনন। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মাধবন বলেন, “ইন্টারভ্যালের পর থেকেই তাঁদের চোখে আমার জন্য অন্যরকম একটা দৃষ্টিভঙ্গি দেখতে পাই। মনে হচ্ছিল, তাঁরা আমাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করছেন। তাঁদের মুখের অভিব্যক্তিই সেটা বলে দিচ্ছিল।”

একটি দৃশ্যই তাঁকে রাজি করিয়েছিল

মাধবনের দাবি, ছবিতে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন মূলত সেই বিখ্যাত সাবওয়ে ফাইট সিকোয়েন্সের জন্য।

“আমি লিঙ্গুসামিকে বলেছিলাম, যদি দর্শক বিশ্বাস করেন যে আমিই শিবা, আর এই দৃশ্যটা সত্যি মনে হয়, তাহলে ছবিটা সফল হবেই। ওই একটি দৃশ্যই আমাকে রান করতে রাজি করিয়েছিল।”

তিনি আরও জানান, অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য কখনও আলাদা প্রশিক্ষণ নেননি।

“এখনকার অভিনেতারা অ্যাকশন ও নাচের জন্য কঠোর প্রশিক্ষণ নেন। তাঁদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু আমি সবটাই শুটিং করতে করতেই শিখেছি।”

সেট তৈরি হয়েছিল শুধু একটি দৃশ্যের জন্য

সেই স্মরণীয় সাবওয়ে দৃশ্যের নেপথ্যের গল্পও শোনান মাধবন। তাঁর কথায়, স্টান্ট পরিচালক পিটার হেইন এবং চিত্রগ্রাহক জীবার পরিকল্পনাই দৃশ্যটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।

“ওটা বাস্তব সাবওয়েতে শুট করা হয়নি। বিশেষভাবে একটি সেট তৈরি করা হয়েছিল। বাস্তব লোকেশন ব্যবহার করা যেত, কিন্তু জীবা স্যর ক্যামেরাকে ছাদের ওপর নিয়ে বিশেষ অ্যাঙ্গেলে শুট করতে চেয়েছিলেন। তাই গোটা সেটই বানানো হয়।”

‘সেদিনই বুঝেছিলাম, দর্শক আমাকে অ্যাকশন হিরো হিসেবেও মেনে নেবেন’

শুটিংয়ের একটি মুহূর্ত আজও তাঁর মনে অমলিন।

“একজন স্টান্ট শিল্পীকে আমি আঘাত করার অভিনয় করি। আসলে কোনও বাস্তব সংস্পর্শই ছিল না। কিন্তু তিনি যেভাবে মাটিতে পড়ে একেবারে নিস্তব্ধ হয়ে রইলেন, সেটা দেখে আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, দৃশ্যটা ঠিক যেমনটা কল্পনা করেছিলাম, তেমনই হয়েছে। তখনই বুঝেছিলাম, দর্শক আমাকে অ্যাকশন হিরো হিসেবেও গ্রহণ করবেন।”

উল্লেখ্য, আর মাধবনকে শেষবার দেখা গিয়েছে আদিত্য ধরের দুই পর্বের প্রতিশোধভিত্তিক অ্যাকশন ছবি ধুরন্ধর-এ।

বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles