Home Sports শ্রীলঙ্কা সিরিজে শুধু ভারতের ভবিষ্যৎ নয়, অনিশ্চয়তায় অজিত আগরকরের ভাগ্যও

শ্রীলঙ্কা সিরিজে শুধু ভারতের ভবিষ্যৎ নয়, অনিশ্চয়তায় অজিত আগরকরের ভাগ্যও

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
14 views 2 minutes read
A+A-
Reset

ভারতীয় ক্রিকেট দলের কাছে চলতি মাসের শ্রীলঙ্কা সফর এখন শুধুমাত্র একটি দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজ নয়, বরং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি)-এর ফাইনালে ওঠার লড়াই এবং ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তেরও বড় পরীক্ষা। টানা হতাশাজনক ফলাফলের পর এই সিরিজে ব্যর্থতা এলে যেমন ভারতের ডব্লিউটিসি ফাইনালে পৌঁছনোর সম্ভাবনা বড় ধাক্কা খাবে, তেমনই প্রশ্নের মুখে পড়বেন জাতীয় দলের নির্বাচক ও কোচিং ব্যবস্থার শীর্ষ কর্তারা।

বোর্ডের একাধিক সূত্রের দাবি, প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর আপাতত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) আস্থাই পাচ্ছেন। বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ের মত, ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপ পর্যন্ত গম্ভীরকে কোচ হিসেবে রাখার পক্ষেই ঝোঁক রয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় অন্যত্র গিয়ে পড়তে পারে।

সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছেন প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর। বিসিসিআইয়ের আগামী সেপ্টেম্বরের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী আগরকরের আরও এক বছর দায়িত্বে থাকার সুযোগ রয়েছে, তবু তাঁর বিদায়ের সম্ভাবনাই এখন বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, আগরকর নিজেও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। অর্থাৎ বিষয়টি শুধুমাত্র বোর্ডের একতরফা সিদ্ধান্ত নয়; দুই পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে কথাবার্তা চলছে।

ক্রিকেটমহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ব্যর্থতার জন্য আগরকরকে ‘বলির পাঁঠা’ করা হতে পারে। কারণ দল নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচক কমিটির হলেও, কোচ, অধিনায়ক এবং বোর্ড—সব পক্ষের মতামতই সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শুধুমাত্র নির্বাচককে দায়ী করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

আগরকরের আমলে ভারতীয় টেস্ট দলে একাধিক বড় পরিবর্তন হয়েছে। সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিদায়, তরুণদের সুযোগ, ভবিষ্যতের দল গঠনের পরিকল্পনা—সব ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল না এলে সেই সিদ্ধান্তগুলিই এখন সমালোচনার মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে, গৌতম গম্ভীরের ক্ষেত্রে বোর্ড এখনও ধৈর্যের নীতি অবলম্বন করছে। তাঁর কোচিং দর্শন দীর্ঘমেয়াদি বলে মনে করছে বিসিসিআই। বোর্ডের ধারণা, একটি নতুন দল গড়ে তুলতে সময় লাগবে এবং মাঝপথে কোচ পরিবর্তন করলে সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। তাই অন্তত আপাতত তাঁর অবস্থান তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।

তবে শ্রীলঙ্কা সফরের ফল অনেক সমীকরণ বদলে দিতে পারে। ভারত যদি সিরিজ জিতে ডব্লিউটিসি পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে, তাহলে চাপ অনেকটাই কমবে। কিন্তু ব্যর্থ হলে নির্বাচক কমিটি থেকে শুরু করে দল গঠনের নীতি—সবকিছুই নতুন করে পর্যালোচনার মুখে পড়বে।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছনোর দৌড়ে ভারতের সামনে এখন ভুলের সুযোগ খুবই সীমিত। সেই কারণেই শ্রীলঙ্কার মাটিতে এই সিরিজ কেবল ক্রিকেটীয় লড়াই নয়, ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণেরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠেছে। সেপ্টেম্বরে বিসিসিআইয়ের এজিএমের আগে এই সিরিজের ফলই হয়তো ঠিক করে দেবে অজিত আগরকর নির্বাচক হিসেবে আর এক বছর থাকবেন, নাকি ভারতীয় ক্রিকেটে শুরু হবে নতুন অধ্যায়।

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles