বাংলাস্ফিয়ার: সামাজিক উদ্যোক্তা ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো হলিউড পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন ছবি ‘দ্য ওডিসি’-র ভূয়সী প্রশংসা করতে গিয়ে বলিউডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মন্তব্যকে অনেকেই হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের প্রতি পরোক্ষ কটাক্ষ হিসেবে দেখছেন।
সামাজিক মাধ্যমে গীতাঞ্জলি জানান, সম্প্রতি তিনি বড় পর্দায় The Odyssey দেখেছেন এবং সেটিকে “পরাবাস্তব” অভিজ্ঞতা বলে বর্ণনা করেন। তিনি স্মরণ করেন, ২০২৪ সালে নিউইয়র্কে আকস্মিকভাবে ক্রিস্টোফার নোলানের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল। সেই সময় ছবিটি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সেই সাক্ষাতের একটি ছবিও তিনি সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নেন।
গীতাঞ্জলির মতে, The Odyssey-এর মূল বিষয়বস্তু ভারতীয় সাংস্কৃতিক কল্পনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাঁর ভাষায়, বীরের যাত্রা, ধর্ম, নিয়তি, নির্বাসন, প্রলোভন, ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষা এবং কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে মানুষের আত্মরূপান্তর—এই সমস্ত বিষয় ভারতীয় মহাকাব্য ও পুরাণেও সমানভাবে উপস্থিত।
এরপরই তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র জগত, বিশেষ করে বলিউডের প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, ভারতের কাছে রামায়ণ, মহাভারতসহ অসংখ্য মহাকাব্যিক কাহিনির এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। এগুলিকে যদি বৃহৎ ক্যানভাসে, সংবেদনশীলতা ও বৌদ্ধিক গভীরতার সঙ্গে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়া যায়, তবে তা বিশ্বমানের সৃষ্টি হতে পারে।
সবচেয়ে আলোচিত অংশটি ছিল তাঁর এই মন্তব্য—“সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, এটি মানুষের চিন্তাভাবনা গড়ে তোলে। সম্ভবত বলিউডের আবার উপলব্ধি করা উচিত যে, সমাজকে শিক্ষা দেওয়ার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যমও সিনেমা।”
এই বক্তব্যের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, গীতাঞ্জলি ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী, গবেষণাভিত্তিক ও চিন্তাশীল বিষয়বস্তু নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করছেন, এটি বলিউডের বর্তমান প্রবণতা—বাণিজ্যিক বিনোদননির্ভর চলচ্চিত্রের—প্রতি স্পষ্ট সমালোচনা।
যদিও গীতাঞ্জলি কোথাও কোনও নির্দিষ্ট পরিচালক বা চলচ্চিত্রের নাম উল্লেখ করেননি, তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি ভারতীয় পুরাণ ও মহাকাব্যের বিশাল সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে ক্রিস্টোফার নোলানের চলচ্চিত্রকে একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে—যেখানে সাহিত্য, দর্শন ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে এক মহাকাব্যিক অভিজ্ঞতা নির্মাণের চেষ্টা দেখা যায়।
ফলে, The Odyssey-র প্রশংসার পাশাপাশি গীতাঞ্জলির এই মন্তব্য ভারতীয় সিনেমার ভবিষ্যৎ দিশা নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।