Home খবর বাংলাদেশে জামিন পেলেন বন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, তবে আপাতত মুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ

বাংলাদেশে জামিন পেলেন বন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, তবে আপাতত মুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
15 views 2 minutes read
A+A-
Reset

বাংলাদেশে বহুল আলোচিত হিন্দু ধর্মগুরু ও ইসকনের প্রাক্তন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী-কে জামিন দিয়েছে আদালত। তবে জামিন মঞ্জুর হলেও তাঁর অবিলম্বে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং সেগুলির আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি জেলেই থাকতে পারেন।

সোমবার বাংলাদেশের একটি আদালত রাষ্ট্রদ্রোহ-সহ একটি মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন মঞ্জুর করে। গত বছরের শেষ দিকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয় এবং ভারতও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন যে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিচারাধীন অবস্থায় বন্দি রয়েছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করলেও আদালত শেষ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করে।

তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জামিনের অর্থ এই নয় যে তিনি এখনই কারাগার থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কোনও মামলায় যদি তাঁকে এখনও গ্রেপ্তার দেখানো থাকে বা আদালত থেকে পৃথক জামিন না মেলে, তাহলে তাঁকে কারাগারেই থাকতে হবে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ হয়েছিল। তাঁর সমর্থকদের অভিযোগ, সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকার নিয়ে সরব হওয়ার কারণেই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রশাসনের দাবি, আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এগোচ্ছে।

ভারত সরকার শুরু থেকেই এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লি বারবার বাংলাদেশ সরকারকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মামলায় ন্যায্য ও স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়েছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক একাধিকবার বলেছে, বাংলাদেশে হিন্দু-সহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই মামলাটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আক্রমণের অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরেও আলোচনা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মামলা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করবে তিনি কবে মুক্তি পাবেন। সব মামলায় প্রয়োজনীয় জামিন বা আইনি স্বস্তি না মিললে বর্তমান জামিন সত্ত্বেও তাঁকে কারাগারেই থাকতে হবে।

ফলে আদালতের এই সিদ্ধান্ত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সাফল্য হলেও, তাঁর অবিলম্বে মুক্তির পথ এখনও পুরোপুরি সুগম হয়নি। এখন নজর থাকবে বাকি মামলাগুলির শুনানি এবং বাংলাদেশের আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles