বাংলাস্ফিয়ার: জম্মু ও কাশ্মীরের কুলগাম জেলায় জঙ্গি হামলায় দুই অ-স্থানীয় শ্রমিক নিহত হওয়ার পর গোটা উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে সেনা, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী যৌথভাবে একাধিক এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই কুলগাম ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, নিহত দুই শ্রমিক ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা ছিলেন এবং কাজের সূত্রে কাশ্মীরে এসেছিলেন। হামলার আগে এক বন্দুকধারী তাঁদের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলে ব্যক্তিগত পরিচয় সম্পর্কে জানতে চায়। এরপর খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়। একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান, অন্যজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান।
তদন্তকারীদের ধারণা, এটি পরিকল্পিতভাবে অ-স্থানীয় শ্রমিকদের লক্ষ্য করে চালানো হামলা। নিহতদের পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা তাঁদের পরিচয়, জাতি ও ধর্ম সম্পর্কেও প্রশ্ন করেছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও হয়নি, তদন্তকারীরা সব দিক খতিয়ে দেখছেন।
ঘটনার পর কুলগামের বিভিন্ন গ্রাম ও বনাঞ্চলে ব্যাপক তল্লাশি শুরু হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিতে নাকা চেকিং বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের খোঁজে একাধিক জায়গায় অভিযান চলছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং হামলাকারীদের গতিবিধি জানতে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এই হামলা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দীর্ঘ প্রায় ২১ মাস পর কাশ্মীরে অ-স্থানীয় শ্রমিকদের উপর এ ধরনের প্রাণঘাতী জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটল। এর ফলে উপত্যকায় কর্মরত হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলেও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লাহ হামলার সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বলেছেন, রাজ্যের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবি জোরালো হওয়ার সময়ই এ ধরনের হামলা ঘটছে। অন্যদিকে পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্য ত্রুটির বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জঙ্গিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সব ধরনের গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি আশপাশের জেলাগুলিতেও নজরদারি বাড়িয়েছে, যাতে হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালাতে না পারে। একই সঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকদের কর্মস্থল ও আবাসন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার মধ্যে বহিরাগত শ্রমিকদের উপর হামলা কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য এবং জড়িত জঙ্গি সংগঠন সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে প্রশাসনের দাবি, দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং উপত্যকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।