প্রতিদিন ১৫ লক্ষেরও বেশি যাত্রী ব্যবহার করেন শিয়ালদহ স্টেশন, যা কলকাতার সবচেয়ে ব্যস্ত রেলস্টেশন। কিন্তু প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরোনোর পর ট্যাক্সি বা অ্যাপ-ক্যাব ধরতে গিয়ে দীর্ঘ হাঁটা, ভিড় এবং বিশৃঙ্খলার মুখে পড়তে হতো বহু যাত্রীকে। বিশেষ করে যাঁদের সঙ্গে ভারী লাগেজ, প্রবীণ সদস্য বা ছোট শিশু থাকত, তাঁদের দুর্ভোগ ছিল আরও বেশি।
এই সমস্যার সমাধানে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন চালু করেছে নতুন সেন্ট্রাল গেট। মূলত দূরপাল্লার মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের জন্য তৈরি এই প্রবেশ ও প্রস্থান পথ স্টেশনে যাতায়াতকে আরও সহজ ও দ্রুত করে তুলবে বলে রেল কর্তৃপক্ষের আশা।
এতদিন যাত্রীদের প্রফুল্ল দ্বার, নর্থ গেট, মেন গেট ও সাউথ গেট—এই চারটি প্রধান পথ ব্যবহার করতে হতো। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীদের স্থানীয় ট্রেনের বিপুল ভিড়ের সঙ্গে মিশে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হতো।
নতুন সেন্ট্রাল গেট চালু হওয়ায় দূরপাল্লার যাত্রীরা এখন আরও সরাসরি স্টেশনে ঢোকা-বেরোনোর সুযোগ পাবেন।
এই গেট দিয়ে প্রবেশ করলে সরাসরি ১১ থেকে ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছনো যাবে। এই প্ল্যাটফর্মগুলিতেই অধিকাংশ মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন আসে ও ছাড়ে।
সবচেয়ে বড় সুবিধা, সেন্ট্রাল গেটের সামনেই তৈরি হয়েছে অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাবের ওঠানামার নির্দিষ্ট স্থান। ফলে স্টেশনের ভেতরে দীর্ঘ পথ হেঁটে বা ভিড় ঠেলে ক্যাব ধরতে হবে না।
রেলের দাবি, স্থানীয় ট্রেনের যাত্রীদের ভিড় থেকে দূরপাল্লার যাত্রীদের চলাচল আলাদা করে দেওয়ায় নিরাপত্তাও বাড়বে। বিশেষ করে প্রবীণ, শিশু-সহ পরিবার এবং ভারী লাগেজ বহনকারী যাত্রীরা এতে বেশি উপকৃত হবেন।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাঁরা অ্যাপ-ক্যাব ব্যবহার করবেন, তাঁদের সেন্ট্রাল গেট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই গেটের কাছেই একটি আধুনিক শৌচাগারও চালু হয়েছে।
শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, এটি শিয়ালদহ স্টেশনের আধুনিকীকরণের প্রথম ধাপ। পর্যায়ক্রমে আরও যাত্রী-পরিষেবা উন্নত করা হবে।
তাঁর কথায়, “আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি যাত্রীর সফরকে আরও আরামদায়ক ও সুবিধাজনক করে তোলা। সেন্ট্রাল গেট চালু হওয়া শিয়ালদহ স্টেশনের আধুনিকীকরণ, যাত্রী চলাচল সহজ করা এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের পরিষেবা উন্নত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”