Table of Contents
লাস ভেগাস: প্রায় তিন দশক পরও রহস্য কাটেনি টুপাক শাকুর হত্যার। এবার সেই মামলাতেই বড় ধাক্কা খেলেন অভিযুক্ত ডুয়েন ‘কেফে ডি’ ডেভিস। নেভাডার বিচারক কার্লি কিয়ার্নি রায় দিয়েছেন, ২০০৮ সালে পুলিশের কাছে ডেভিসের দেওয়া সাক্ষাৎকার আসন্ন বিচারে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। ফলে দীর্ঘদিনের এই মামলায় প্রসিকিউশনের হাতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার এল বলে মনে করা হচ্ছে।
৬৩ বছর বয়সি ডেভিসের বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে লাস ভেগাসে টুপাককে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। প্রায় তিন দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা মামলাটির বিচার শুরু হওয়ার কথা ১০ আগস্ট।
গুলিতে থেমেছিল টুপাকের জীবন
১৯৯৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর। লাস ভেগাসে একটি বক্সিং ম্যাচ দেখে ফিরছিলেন টুপাক শাকুর। গাড়িতে বসে থাকার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ছয় দিন পর মৃত্যু হয় ২৫ বছর বয়সি এই র্যাপ তারকার।
তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ৩০ বছর। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের রহস্য পুরোপুরি কাটেনি। টুপাকের মৃত্যু হিপ-হপ ইতিহাসের অন্যতম বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।
কী বলেছিলেন ‘কেফে ডি’?
বছরের পর বছর তদন্ত কার্যত থমকে থাকার পর মামলায় নতুন মোড় আসে ডেভিসের বিভিন্ন প্রকাশ্য বক্তব্যের সূত্র ধরে। পরে নিজের সহ-লিখিত বইতেও তিনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে একাধিক দাবি করেন।
সেখানে ডেভিস জানিয়েছিলেন, গুলি চালানোর সময় তিনি ঘটনাস্থলের একটি ক্যাডিল্যাকে ছিলেন এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। তাঁর সেই বক্তব্য তদন্তকারীদের নজরে আসে এবং পুরনো মামলাটি ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে।
২০০৮-এর সাক্ষাৎকার নিয়ে বিতর্ক
মঙ্গলবারের শুনানিতে ডেভিসের আইনজীবী মাইকেল স্যানফ্ট আদালতে যুক্তি দেন, ২০০৮ সালে পুলিশের সঙ্গে হওয়া সাক্ষাৎকারটি গোপনীয় থাকার কথা ছিল। প্রতিরক্ষার দাবি, তদন্তকারীরা তখন ডেভিসকে জানিয়েছিলেন যে ওই সাক্ষাৎকার ভবিষ্যতে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে ব্যবহার করা হবে না।
সেই যুক্তির ভিত্তিতেই সাক্ষাৎকারের রেকর্ডিংকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ না করার আবেদন জানানো হয়েছিল।
কিন্তু সেই দাবি মানেননি বিচারক কার্লি কিয়ার্নি।
আদালতের রায়ে প্রসিকিউশনের স্বস্তি
বিচারক জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের সাক্ষাৎকারটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য এবং বিচার চলাকালীন প্রসিকিউশন সেটি আদালতে উপস্থাপন করতে পারবে।
ফলে ডেভিসের পুরনো সাক্ষাৎকার, তাঁর বইয়ে করা দাবিগুলি এবং তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া বিভিন্ন তথ্য—সব মিলিয়ে মামলায় প্রসিকিউশনের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রতিরক্ষা পক্ষের অবস্থান এখনও একই—ডেভিসের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
তিন দশক পর সত্যিই কি খুলবে রহস্য?
টুপাক শাকুরের হত্যা শুধু একটি তারকা-হত্যার মামলা নয়। এটি হিপ-হপ সংস্কৃতির অন্যতম বড় রহস্য, যার উত্তর খুঁজতে গিয়ে কেটে গিয়েছে প্রায় তিন দশক।
এবার সেই মামলার বিচার শুরু হতে চলেছে। ১০ আগস্ট আদালতে শুরু হবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচারপর্ব। সেখানে ২০০৮ সালের সেই সাক্ষাৎকার কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং ডেভিসের বক্তব্য মামলার গতিপথ কোন দিকে ঘোরায়—সেদিকেই এখন নজর।
টুপাকের মৃত্যুর ৩০ বছর পর প্রশ্ন একটাই—এবার কি সত্যিই খুলবে হিপ-হপের সবচেয়ে বড় হত্যারহস্য?