Home খবর এআই বুদ্‌বুদে হাওয়া দিচ্ছে এনভিডিয়া?

এআই বুদ্‌বুদে হাওয়া দিচ্ছে এনভিডিয়া?

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
8 views 2 minutes read
A+A-
Reset

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) দুনিয়ায় এনভিডিয়ার (Nvidia) উত্থান গত কয়েক বছরে কার্যত অভূতপূর্ব। বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান সংস্থায় পরিণত হওয়া এই চিপ নির্মাতা এবার এমন কিছু আর্থিক চুক্তির পথে এগোচ্ছে, যার মোট সম্ভাব্য মূল্য প্রায় $750 বিলিয়ন। কিন্তু এই বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগই এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এনভিডিয়া কি সত্যিই ভবিষ্যতের এআই অবকাঠামো গড়ছে, নাকি অজান্তেই তৈরি করছে এক নতুন ‘AI Bubble’?

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পগোষ্ঠী SK Group-এর সঙ্গে বিশাল এআই অবকাঠামো অংশীদারিত্বের ঘোষণা করেছে এনভিডিয়া। সম্ভাব্য $500 বিলিয়নেরও বেশি মূল্যের এই চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে SK Hynix-এর, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মেমোরি চিপ প্রস্তুতকারক এবং এনভিডিয়ার প্রধান সরবরাহকারী।

এতেই শেষ নয়। Bloomberg-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, OpenAI-এর সঙ্গেও আরও একটি নজিরবিহীন আর্থিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে নির্মীয়মাণ একটি বিশাল ডেটা সেন্টার প্রকল্পে কম্পিউটিং ক্ষমতা ভাড়া নেওয়ার জন্য ওপেনএআইকে সর্বোচ্চ $250 বিলিয়ন পর্যন্ত আর্থিক গ্যারান্টি দিতে পারে এনভিডিয়া।

শুধু তাই নয়, ওই প্রকল্পের জন্য ওপেনএআই যাতে বিপুল পরিমাণ এনভিডিয়ার জিপিইউ (GPU) চিপ কিনতে পারে, তার জন্য আরও $350 বিলিয়ন পর্যন্ত অর্থায়নের বিষয়েও আলোচনা চলছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, একক কোনও গ্রাহকের জন্য এটিই হবে এনভিডিয়ার ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম অর্থায়ন উদ্যোগ।

বিতর্কের কেন্দ্রে ‘সার্কুলার ফাইন্যান্সিং’

সমালোচকদের উদ্বেগের মূল কারণ একটি বিষয়—‘সার্কুলার ফাইন্যান্সিং’। তাঁদের অভিযোগ, এনভিডিয়া নিজেই গ্রাহকদের অর্থ জোগাচ্ছে, যাতে তারা আবার সেই অর্থ দিয়ে এনভিডিয়ার চিপ কিনতে পারে। ফলে বাজারে চাহিদা স্বাভাবিকভাবে তৈরি হচ্ছে না; বরং অর্থায়নের জোরেই বিক্রি ও আয়ের চিত্র ফুলে-ফেঁপে উঠতে পারে। এতে সংস্থার বাজারমূল্যও বাস্তবতার তুলনায় অনেক বেশি বলে মনে হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ফিরছে কি ডট-কম যুগের স্মৃতি?

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতি অনেকটাই ২০০০ সালের ডট-কম বুদ্‌বুদের কথা মনে করিয়ে দেয়। সে সময় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির মূল্যায়ন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশিত ব্যবসায়িক সাফল্য না আসায় শেষ পর্যন্ত বাজারে বড় ধস নামে। তাঁদের আশঙ্কা, এআই শিল্পেও যদি অতিরিক্ত আশাবাদ বাস্তবতাকে ছাপিয়ে যায়, তবে বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।

এনভিডিয়ার যুক্তি কী?

অন্যদিকে এনভিডিয়ার সমর্থকদের বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন। তাঁদের দাবি, এআই যুগে ডেটা সেন্টার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং এবং উন্নত জিপিইউ চিপের চাহিদা আগামী বহু বছর ধরে দ্রুত বাড়তেই থাকবে। সেই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই সংস্থাটি এখন বড় আকারে বিনিয়োগ করছে। অর্থাৎ, তারা শুধু চিপ বিক্রি করছে না; বরং আগামী প্রজন্মের এআই অবকাঠামো নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি বাজি ধরছে।

বর্তমানে OpenAI, Microsoft, Meta, Google, Amazon-সহ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থাগুলি এআই খাতে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। এই প্রতিযোগিতায় এনভিডিয়ার জিপিইউ-ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই বাজারে নিজেদের আধিপত্য আরও মজবুত করতেই সংস্থাটি আগ্রাসী কৌশল নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

তবে প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে—এই বিপুল অর্থায়ন কি সত্যিই এআই শিল্পের ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করবে, নাকি এটি কেবল অতিরিক্ত আশাবাদের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক নতুন আর্থিক বুদ্‌বুদ? সেই উত্তরই আগামী কয়েক বছরে নির্ধারণ করবে এআই শিল্পের পরবর্তী অধ্যায়।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles