Home খবর মামদানিকে নিশানা নেতানিয়াহুর, সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে যাওয়ার ঘোষণা

মামদানিকে নিশানা নেতানিয়াহুর, সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে যাওয়ার ঘোষণা

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
10 views 2 minutes read
A+A-
Reset

নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ ও ‘বিভাজনমূলক রাজনীতি’ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুললেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একইসঙ্গে জানিয়ে দিলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি নিউ ইয়র্কে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

গাজা যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। সেই পরোয়ানা কার্যকর করে নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করার আহ্বান জানিয়েছিলেন মামদানি।

রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারই জবাব দেন নেতানিয়াহু। তাঁর অভিযোগ, নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে মামদানির উচিত শহরের সব বাসিন্দার—ইহুদি, খ্রিস্টান, মুসলিম নির্বিশেষে—প্রতিনিধিত্ব করা। কিন্তু তার বদলে তিনি এক সম্প্রদায়কে অন্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন।

মামদানির ‘গ্রেপ্তারের’ আহ্বান

মামদানি সম্প্রতি বলেছিলেন, নিউ ইয়র্ক সিটি প্রশাসনের নিজস্ব আইনি ক্ষমতা না থাকলেও মার্কিন ফেডারেল সরকারের উচিত আইসিসির জারি করা পরোয়ানা কার্যকর করা।

২০২৫ সালের নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনের প্রচারের সময় থেকেই মামদানি জানিয়ে আসছিলেন, নেতানিয়াহু শহরে এলে আইসিসির পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য নিউ ইয়র্ক পুলিশের সহযোগিতা চাইবেন।

গত বুধবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বা অন্য কোনও অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীর নিউ ইয়র্কে স্বাগত নেই। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে নিউ ইয়র্ক সিটি সম্মান করবে।

আইসিসির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’, দাবি নেতানিয়াহুর

সাক্ষাৎকারে আইসিসির যুদ্ধাপরাধের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, আইসিসির প্রধান কৌঁসুলির বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর আদালতের জারি করা পরোয়ানার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

নেতানিয়াহুর অভিযোগ, ওই পরোয়ানা জারি করে অন্য বিতর্ক থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

তবে মামদানির দফতরের পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

আমেরিকায় কমছে ইসরায়েলের সমর্থন?

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু আরও স্বীকার করেন, একসময় যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি যে দ্বিদলীয় সমর্থন ছিল, তা এখন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল ও বামপন্থী অংশে ইসরায়েল-বিরোধী মনোভাব বাড়ছে বলে দাবি তাঁর। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমি দেশগুলিতে ইহুদিবিদ্বেষ বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

নেতানিয়াহুর কথায়, নিউ ইয়র্কে বহু ইহুদির সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন যে তাঁরা নিজেদের নিরাপদ বা স্বস্তিতে মনে করছেন না। তাঁর মতে, এটি মোটেই ভালো লক্ষণ নয়।

গাজা যুদ্ধ নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে নেতানিয়াহু

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। পরবর্তী সময়ে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লার বিরুদ্ধেও সামরিক অভিযান চালানো হয়।

গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু, তাঁর প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং হামাসের নিহত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে হেগ-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের প্রায় অর্ধেক নারী ও শিশু। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন সাধারণ নাগরিক।

ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর পাশে

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে তাঁকে কোনও অবস্থাতেই গ্রেপ্তার করা হবে না।

সোমবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। পাশাপাশি সম্প্রতি প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের শেষকৃত্যেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

গ্রাহামকে নেতানিয়াহু ‘মহান দেশপ্রেমিক’ এবং ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এখন সেপ্টেম্বরে নেতানিয়াহুর নিউ ইয়র্ক সফর বাস্তবে হলে মামদানি প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর সংঘাত কতটা তীব্র হয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles