ইউক্রেনের একটি বন্দরে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলো ভারতীয় নাবিক থাকা একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এটি তৃতীয় ঘটনা। রবিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, হামলার সময় জাহাজটিতে চারজন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন নিরাপদে রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাকি দু’জনের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
ভারতের দূতাবাস জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা এবং ইউক্রেনীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিখোঁজ বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন দুই ভারতীয়র অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
বিদেশ মন্ত্রকের এক মুখপাত্র বলেন, ইউক্রেনের সংঘর্ষপূর্ণ অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত কূটনৈতিক ও কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর ভারত আবারও নিজেদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কবার্তা জারি করেছে। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল এবং বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী বন্দর এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত থেকে বিরত থাকতে হবে। যাঁরা ইতিমধ্যে সেখানে রয়েছেন, তাঁদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের জেরে কৃষ্ণসাগর এবং ইউক্রেনের বন্দরাঞ্চল আবারও তীব্র হামলার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলিও এর বাইরে থাকছে না। শস্য, খনিজ ও অন্যান্য পণ্য পরিবহণকারী জাহাজগুলির উপর হামলার আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। ফলে বিভিন্ন দেশের নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় নাবিকরা দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী জাহাজে হাজার হাজার ভারতীয় কর্মরত। যুদ্ধক্ষেত্র বা সংঘাতপূর্ণ সমুদ্রপথে তাঁদের নিরাপত্তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
গত এক সপ্তাহেই ভারতীয় নাবিক থাকা তিনটি জাহাজ হামলার মুখে পড়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। প্রতিটি ঘটনার পর ভারতীয় দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে। তবে বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটায় সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে সংঘর্ষ যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই বেসামরিক জাহাজগুলির ঝুঁকি বাড়বে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাগুলিও বারবার সতর্ক করছে যে যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি নৌপথে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
ভারত সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। ইউক্রেনে অবস্থানরত ভারতীয়দের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে দূতাবাস প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় নাবিকদের নিয়োগকারী সংস্থা ও জাহাজ পরিচালনাকারীদেরও নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দুই ভারতীয়র বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান ও যোগাযোগের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। পরিস্থিতির উন্নয়ন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।