বাংলাস্ফিয়ার: নয়াদিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সামনে এল নতুন তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ)-এর এক জওয়ান একটি পেলেট গান থেকে মোট সাত রাউন্ড গুলি ছোড়েন। তার মধ্যে পাঁচটি পেলেট বিক্ষোভকারীদের গায়ে লাগে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনাটি নিয়ে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং দিল্লি পুলিশের তরফে পৃথকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থলে মোতায়েন বাহিনীর সদস্যদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং আহতদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, ওই পরিস্থিতিতে পেলেট গান ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ছিল কি না এবং বলপ্রয়োগ নির্ধারিত নির্দেশিকা মেনে করা হয়েছিল কি না।

গত সপ্তাহে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে রাজধানীতে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী বিক্ষোভে সামিল হন। যন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে মিছিল এগোতেই পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। এরপর ধস্তাধস্তি, জলকামান, লাঠিচার্জ এবং পরে পেলেট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বহু আন্দোলনকারী আহত হন। কয়েকজনের চোখ, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে। এই ঘটনাই দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।

তদন্তকারী সূত্রের মতে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কার্তুজ এবং অস্ত্রের নথি মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আরএএফ সদস্যের অস্ত্র জমা নিয়ে ব্যালিস্টিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি কার নির্দেশে গুলি চালিয়েছিলেন, নাকি পরিস্থিতির মূল্যায়ন করে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আহতদের চিকিৎসা করা চিকিৎসকদের বক্তব্যও তদন্তে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালের রিপোর্টে একাধিক বিক্ষোভকারীর শরীরে পেলেটজাতীয় ধাতব কণার উপস্থিতির উল্লেখ রয়েছে। এই তথ্য ঘটনাস্থলের ভিডিওর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিরোধী দলগুলি ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন দমন করতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। সংসদের ভিতরেও বিষয়টি তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, পেলেট ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছিল, তা স্পষ্ট করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সরকারি সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। তবে যদি তদন্তে কোনও সদস্যের আচরণ নির্ধারিত বিধি লঙ্ঘন করেছে বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয় বলেও সরকারের বক্তব্য।

মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন শক্তি ব্যবহারের নীতি অনুসরণ করা উচিত। পেলেট গান ব্যবহারের মতো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ এতে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলন আরও রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, কেবল দায়ী জওয়ানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়, পুরো ঘটনার জন্য দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করতে হবে। তদন্তের ফলাফলের উপরই নির্ভর করবে, এটি কেবল একজন সদস্যের সিদ্ধান্ত ছিল, নাকি জনতা নিয়ন্ত্রণের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে পেলেট ব্যবহার করা হয়েছিল। তদন্ত শেষ হলে সেই প্রশ্নগুলিরই উত্তর সামনে আসবে।