Home খবর ‘জিতেছে শুধু অভিজিৎ নয়, জিতেছে দেশের ছাত্রসমাজ’ — সিজেপি প্রতিষ্ঠাতার বাড়িতে স্বস্তির নিঃশ্বাস, তবু রাজনীতিতে না যাওয়ার বার্তা বাবার

‘জিতেছে শুধু অভিজিৎ নয়, জিতেছে দেশের ছাত্রসমাজ’ — সিজেপি প্রতিষ্ঠাতার বাড়িতে স্বস্তির নিঃশ্বাস, তবু রাজনীতিতে না যাওয়ার বার্তা বাবার

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
64 views 3 minutes read
A+A-
Reset

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর যখন দিল্লির যন্তর মন্তরে উল্লাসে ফেটে পড়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সমর্থকেরা, তখন মহারাষ্ট্রের নিজ বাড়িতে অনেক দিনের উদ্বেগ কাটিয়ে যেন প্রথমবারের মতো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের বাবা-মা। আন্দোলনের সাফল্যে আনন্দিত হলেও তাঁদের বক্তব্য স্পষ্ট— এই লড়াই ছিল ছাত্রদের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য, ক্ষমতার রাজনীতিতে প্রবেশের জন্য নয়।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিজিৎ দিপকের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে ছিলেন তাঁর পরিবার। দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, প্রশাসনিক চাপ এবং নানা বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন। টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে প্রতিদিন তাঁর ছবি দেখে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পরিবারের।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই বাড়িতে যেন উৎসবের আবহ তৈরি হয়। অভিজিতের মা বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ করে এই ঘটনাকে ‘ছাত্রদের বিজয়’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর কথায়, “আমার ছেলে নিজের জন্য কিছু চায়নি। সে শুধু চাইছিল ছাত্রদের প্রতি ন্যায়বিচার হোক। আজ সেই লড়াইয়ের একটা বড় ফল মিলেছে।”

তবে এই আনন্দের মধ্যেও পরিবারের আবেগে মিশে রয়েছে দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার স্মৃতি। আন্দোলনের সময় বহুবার অভিজিতের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁরা। কোথাও পুলিশি অভিযান, কোথাও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ— সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কেটেছে।

অভিজিতের বাবা আরও সংযত ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ছেলের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা প্রমাণ করেছে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরাও শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করতে পারে। কিন্তু সেই কারণেই রাজনীতিতে যোগ দেওয়া উচিত— এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একেবারেই একমত নন।

তিনি বলেন, “আমি চাই না ও সক্রিয় রাজনীতিতে যাক। রাজনীতি খুব কঠিন জায়গা। ও সমাজের জন্য কাজ করুক, মানুষের পাশে থাকুক, কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দলের অংশ হয়ে নয়।”

পরিবারের এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ গত কয়েক দিনে বিভিন্ন মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল, আন্দোলনের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সিজেপি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে কি না। অভিজিতের বাবার মন্তব্য সেই জল্পনায় আপাতত জল ঢেলে দিয়েছে।

প্রতিবেশীরাও জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই অভিজিৎ পড়াশোনা ও সামাজিক বিষয় নিয়ে সচেতন ছিল। তবে এত বড় জাতীয় আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। তাঁদের মতে, এই সাফল্যের পরেও যদি সে সাধারণ জীবনেই ফিরে যেতে পারে, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে যে, এই আন্দোলনের লক্ষ্য কোনও ব্যক্তির পদত্যাগে সীমাবদ্ধ ছিল না। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রশ্নফাঁস রোধ, ছাত্রদের মানসিক নিরাপত্তা এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন— এই বৃহত্তর দাবিগুলিই ছিল আন্দোলনের মূল ভিত্তি।

অভিজিতের মা বলেন, “একজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যদি ভবিষ্যতে আর কোনও ছাত্রকে প্রশ্নফাঁসের জন্য আত্মহত্যা করতে না হয়, যদি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে হয়, তাহলেই এই আন্দোলনের প্রকৃত সাফল্য হবে।”

পরিবারের আশা, আন্দোলনের ফলে শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, শিক্ষাব্যবস্থারও স্থায়ী সংস্কার হবে। তাঁদের বিশ্বাস, দেশের তরুণ প্রজন্ম যে ঐক্য, ধৈর্য এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছে, তা ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া যেমন শুরু হয়েছে, তেমনই অভিজিৎ দিপকের বাড়ির প্রতিক্রিয়া অন্য এক বার্তা দিয়েছে— আন্দোলনের সাফল্যকে ব্যক্তিগত ক্ষমতা বা রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষায় রূপান্তরিত না করে, সেটিকে ছাত্রদের অধিকারের বিজয় হিসেবেই দেখতে চায় তাঁর পরিবার। তাদের কাছে এই লড়াইয়ের প্রকৃত মূল্য কোনও রাজনৈতিক ভবিষ্যতে নয়, বরং এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠায়, যেখানে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ আর কখনও অনিশ্চয়তার শিকার হবে না।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles