পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে পৃথক জঙ্গি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্য, সামরিক বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা এবং সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে পাকিস্তানে জঙ্গি তৎপরতা যেভাবে বেড়েছে, এই হামলাগুলি সেই নিরাপত্তা সংকটকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
নিরাপত্তা সূত্রের খবর, খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানের একাধিক এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহলদল এবং সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। কোথাও রাস্তার ধারে পেতে রাখা বিস্ফোরক (আইইডি) ফাটানো হয়, কোথাও আবার স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিতে গুলি চালায় জঙ্গিরা। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করেছে।
সবচেয়ে বড় হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন সেনা ও পুলিশ সদস্য নিহত হন। অন্য একটি ঘটনায় সশস্ত্র জঙ্গিরা একটি পুলিশ চৌকিতে হামলা চালালে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয় এবং কয়েকজন আহত হন।
এ ছাড়া পৃথক সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত সব হামলার দায় কোনও একটি সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি, পাকিস্তানের নিরাপত্তা মহলের প্রাথমিক ধারণা, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির সক্রিয় সদস্যরা এই হামলাগুলির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই গোষ্ঠীই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে।
হামলার পর প্রধানমন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব ঘটনাগুলির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে তাঁরা বলেছেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং দোষীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। নিরাপত্তা বাহিনীকে দ্রুত অভিযানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানে তালিবান শাসন প্রতিষ্ঠার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি সংগঠনগুলির গতিবিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই হামলার মুখে পড়ছে। এর ফলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
সাম্প্রতিক এই হামলাগুলি আবারও দেখিয়ে দিল, জঙ্গিবাদ দমনে পাকিস্তানের সামনে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার অভিযান সত্ত্বেও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি হামলা চালানোর সক্ষমতা বজায় রেখেছে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।