হাইলাইটস:
- বৃহস্পতিবার রাতে নতুন করে কড়া অভিযানের পরিকল্পনা নেই বলে জানাল দিল্লি পুলিশ।
- দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের বিক্ষোভস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিল।
- গান্ধী স্মৃতিতে গিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রদের প্রতি সংহতি জানাল ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব।
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গ্রহণের আবেদন জানালেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
বাংলাস্ফিয়ার: নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলন বৃহস্পতিবার আরও এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মোড় নিল। একদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়ে দিল, রাতের মধ্যে নতুন করে কোনও দমনমূলক অভিযানের পরিকল্পনা নেই। অন্যদিকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় (ডিইউ) শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে আন্দোলনস্থল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিল। একই সময়ে বিরোধী শিবির আন্দোলনের পাশে আরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে গান্ধী স্মৃতিতে পৌঁছয়।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হলেও বৃহস্পতিবার রাতে জোরপূর্বক আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া বা বড় ধরনের অভিযান চালানোর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় থাকলেও আপাতত সংযমের নীতি বজায় রাখা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি পরামর্শ জারি করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভস্থলে না যাওয়ার অনুরোধ জানায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য, চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনও ধরনের সংঘর্ষ বা অনভিপ্রেত ঘটনার মধ্যে যাতে পড়তে না হয়, সে কারণেই এই সতর্কতা।
এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন আরও জোরদার করেছে। বৃহস্পতিবার নিজের বাসভবনে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের পর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক মাধ্যমে জানান, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে জোটের নেতারা গান্ধী স্মৃতিতে যাচ্ছেন।
রাহুল লেখেন, ২০ জুলাই পুলিশের অভিযানে আহত ছাত্রছাত্রীদের পাশে বিরোধীরা রয়েছে এবং তাঁদের ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিরোধী দলগুলির নীরব থাকার সুযোগ নেই।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা বাসে করে তিস জানুয়ারি মার্গের গান্ধী স্মৃতিতে পৌঁছন। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, শিবসেনা (উদ্ধব), এনসিপি (শরদ পওয়ার), আরজেডি-সহ একাধিক দলের সাংসদ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যৌথভাবে গান্ধীর স্মৃতির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা অহিংস আন্দোলনের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করেন এবং ছাত্রদের আন্দোলনের প্রতি সংহতির বার্তা দেন।
বিরোধীদের দাবি, প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং কর্মসংস্থানের সংকট—এই সব মিলিয়েই যুবসমাজের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছে। তাই কেবল আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন হিসেবে আন্দোলনকে দেখলে সমস্যার সমাধান হবে না।
এদিন আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দিপকেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে সরাসরি আবেদন জানান। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গ্রহণ করাই এখন সরকারের উচিত। সরকারের এই পদক্ষেপ আন্দোলনকারীদের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে।
দিপকের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহে সরকার আন্দোলনের মূল দাবিগুলিকে গুরুত্ব না দিয়ে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করেছে। তাঁর দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদের নতুন কর্মসূচি নেওয়া হবে।
সিজেপির দাবি, শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্ত, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের পুনর্বাসন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের রূপরেখাও সরকারকে ঘোষণা করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে এটি মূলত ছাত্রদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হলেও এখন তা স্পষ্টতই একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে। একদিকে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে উত্তেজনা না বাড়ানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে জাতীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে।
বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও আন্দোলনের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, আলোচনার উদ্যোগ কিংবা প্রশাসনিক কঠোরতা—কোন পথ বেছে নেওয়া হবে, সেটিই আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণ করতে পারে। আপাতত রাজধানীর নজর গান্ধী স্মৃতি থেকে যন্তর-মন্তর—দুই জায়গাতেই। সেখানে ছাত্রদের আন্দোলন এবং তাকে ঘিরে রাজনৈতিক সংহতির ছবি দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।