ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তাঁর পূর্বসূরি সেপ ব্লাটার এবং স্পেনের লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। দু’জনেই মনে করছেন, ইনফান্তিনোর পদত্যাগ করা উচিত।
স্পেন বিশ্বকাপ জয়ের পর তেবাস অভিযোগ করেন, ইনফান্তিনো জাতীয় লিগগুলির স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বিশ্বকাপকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, “ফুটবল শিল্পকে ধ্বংস করা হচ্ছে। সবকিছু বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে চলতে পারে না। এই খেলার ভিত্তি জাতীয় প্রতিযোগিতাগুলি।”
বিশেষ করে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন তেবাস। তাঁর মতে, এতে ফুটবলের মান কমবে এবং সারা বিশ্বের ঘরোয়া লিগগুলির উপর বাড়তি চাপ পড়বে।
তেবাস বলেন, “ইনফান্তিনোর সময় শেষ। কিন্তু তাঁকে সরানো কঠিন, কারণ ফেডারেশনগুলির সমর্থনে গোটা ব্যবস্থাটাই পচে গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো কার্যত কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।”
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নির্বাসন স্থগিত করার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর ছিল। তেবাসের অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনকলের পরই সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। যদিও ফিফার দাবি, শাস্তি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে শৃঙ্খলা কমিটি নিয়েছিল এবং তা নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে।
তেবাসের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র বেলজিয়ামকে হারিয়ে আরও এগোত, তাহলে এই বিতর্কই ইনফান্তিনোর পদ হারানোর কারণ হতে পারত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বিদায় নেওয়ায় বিষয়টি চাপা পড়ে যায়।
অন্যদিকে সেপ ব্লাটারও সামাজিক মাধ্যমে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে সঠিক চ্যাম্পিয়নের হাতে ট্রফি তুলে দিয়ে, কিন্তু ফাইনালের পথে টুর্নামেন্ট তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। রাজনীতি কখনও ফুটবলকে ছাপিয়ে যেতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “সমর্থক, ফুটবলার এবং জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলির উচিত ফুটবলকে পুনরুদ্ধার করা এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে তাকে তার শিকড়ে ফিরিয়ে আনা।”
তেবাস বিশ্বকাপে দীর্ঘায়িত হাফটাইম এবং হাইড্রেশন বিরতিকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, এগুলি খেলোয়াড়দের স্বার্থে নয়, বরং বিজ্ঞাপনী আয় বাড়ানোর জন্য করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “ডালাস, লস অ্যাঞ্জেলেস বা আটলান্টার স্টেডিয়ামে এতটাই ঠান্ডা ছিল যে গ্যালারিতে বসে আমাকে জ্যাকেট পরতে হয়েছে। সেখানে হাইড্রেশন বিরতির কোনও বাস্তব প্রয়োজনই ছিল না।”
এই মন্তব্যগুলির বিষয়ে ফিফার কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও সংস্থাটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।