হাইলাইটস:
- মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
- আলোচনার মাঝেই উইটকফকে প্রশ্ন করেছিলেন, “কখনও এমন পরিস্থিতিতে আলোচনা করেছেন, যখন যে কোনও মুহূর্তে বোমা পড়তে পারে?”
- ফেব্রুয়ারির যুদ্ধের পরও দু’পক্ষের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানান আরাঘচি।
- তেহরানের দাবি, এই যোগাযোগকে আনুষ্ঠানিক পরমাণু আলোচনা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
- ইরান–মার্কিন সম্পর্ক এখনও চরম অবিশ্বাস ও উত্তেজনার মধ্যেই রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসেও যুদ্ধের আতঙ্ক যে কতটা বাস্তব ছিল, তারই এক বিরল অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন— “আপনি কি কখনও এমন পরিস্থিতিতে আলোচনা করেছেন, যখন যে কোনও মুহূর্তে বোমা পড়ার আশঙ্কা থাকে?”
আরাঘচির এই মন্তব্য সামনে আসতেই স্পষ্ট হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না হলেও তা কতটা উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে চলছিল। তবে তিনি কোন বৈঠক বা কোন স্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছিলেন, তা স্পষ্ট করেননি।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত বছর শুরু হওয়া আলোচনা থেকেই আরাঘচি ও উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সূত্রপাত। পরে ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হলেও, সেই যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। মাঝেমধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান চলেছে বলে ইরানের বিদেশমন্ত্রী স্বীকার করেছেন।
তবে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট। ইরানের দাবি, এই যোগাযোগকে কোনওভাবেই আনুষ্ঠানিক পরমাণু আলোচনা বা নতুন কূটনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। বরং তা ছিল নির্দিষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমিত ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাতের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের এই ধারাবাহিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কারণ, দীর্ঘদিনের বৈরিতার মধ্যেও উভয় পক্ষই সংকট নিয়ন্ত্রণের জন্য অন্তত ন্যূনতম যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে আগ্রহী।
তবে আরাঘচির মন্তব্য থেকে এটাও স্পষ্ট, সেই যোগাযোগ কোনও স্বাভাবিক কূটনৈতিক পরিবেশে হয়নি। যুদ্ধের আশঙ্কা, সম্ভাব্য বিমান হামলা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেই আলোচনার চেষ্টা চালাতে হয়েছে ইরানের প্রতিনিধিদের। তাঁর বক্তব্যে সেই মানসিক চাপ এবং অনিশ্চয়তার ছবিই ফুটে উঠেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে। যদিও সরাসরি সংঘাত এড়াতে বিভিন্ন পর্যায়ে বার্তা আদানপ্রদানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, তবুও রাজনৈতিক অবিশ্বাস এখনও কাটেনি।
কূটনৈতিক মহলের মতে, আরাঘচির এই প্রকাশ্য মন্তব্য শুধু অতীতের একটি অভিজ্ঞতা নয়; বরং এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আলোচনাতেও নিরাপত্তা ও পারস্পরিক আস্থার প্রশ্নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে চায়। যুদ্ধের ছায়ায় কূটনীতি কতটা কঠিন হয়ে ওঠে, সেই বাস্তবতারই একটি বিরল সাক্ষ্য হয়ে থাকল তাঁর এই মন্তব্য।