Table of Contents
হাইলাইটস
- সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে এলে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা আইনসম্মত হবে কি না, তা খতিয়ে দেখছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন।
- মামদানির বক্তব্য, যে কোনও সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে আইনের সীমার মধ্যে।
- ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।
- ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।
- আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন, আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনৈতিক বিধির সঙ্গে জড়িত একটি জটিল প্রশ্ন।
সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কে এলে তাঁকে গ্রেফতার করা আইনত সম্ভব কি না, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আইনি পর্যালোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন মেয়র নিজেই।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর পডকাস্ট The Interview-এ মামদানি বলেন, তাঁর প্রশাসনের আইন বিভাগ বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে।
তাঁর কথায়, “আমরা কোনওভাবেই আইনের সীমা অতিক্রম করতে চাই না। যা-ই করা হবে, তা সম্পূর্ণ আইনি ভিত্তিতেই করা হবে।”
মামদানি আরও বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস অনুযায়ী, “প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে।” উল্লেখ্য, নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) সদর দপ্তর অবস্থিত।
আইসিসির পরোয়ানা ঘিরে বিতর্ক
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্ট-এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
ইসরায়েল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও আইসিসির এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—দু’জনেই আদালতের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, এখন আইনি পরীক্ষা
মেয়র নির্বাচনের প্রচারের সময় মামদানি বলেছিলেন, তিনি নির্বাচিত হলে নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কে এলে তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা করবেন।
তবে এখন তিনি জানিয়েছেন, কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তার আইনি বৈধতা নিশ্চিত করা হবে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক অবস্থান নয়, আইনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া
মামদানির মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ইসরায়েল।
জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, নেতানিয়াহু যথারীতি নিউ ইয়র্কে আসবেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসরায়েলের অবস্থান ও আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে বক্তব্য রাখবেন।
এর আগে আইসিসির পরোয়ানাকে “ইহুদিবিদ্বেষমূলক” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তাঁর অভিযোগ ছিল, আদালতের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে খর্ব করা।
ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান
ক্ষমতায় ফিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আইসিসির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।
তাঁর প্রশাসন আদালতের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং এক নির্বাহী আদেশে আইসিসির পদক্ষেপকে “অবৈধ ও ভিত্তিহীন” বলে উল্লেখ করে।
আইনি বাস্তবতা কতটা জটিল?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র এককভাবে কোনও বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিতে পারেন কি না, তার সহজ উত্তর নেই।
এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন, আন্তর্জাতিক আইন, কূটনৈতিক অনাক্রম্যতা, জাতিসংঘ সদর দপ্তর-সংক্রান্ত বিশেষ চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার মতো একাধিক আইনি প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে।
ফলে নেতানিয়াহু সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে এলে কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আপাতত মামদানি প্রশাসন সম্ভাব্য সব আইনি দিক খতিয়ে দেখছে, আর ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী জাতিসংঘে যোগ দেবেন।