হাইলাইটস:

  • শাহরুখ খানের বাড়ি ‘মন্নত’-এ আরও দুই তলা নির্মাণের ছাড়পত্র বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট।
  • পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের হওয়া আবেদন খারিজ করে আবেদনকারীর উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলল শীর্ষ আদালত।
  • আদালতের পর্যবেক্ষণ, আবেদনকারীর সদিচ্ছা নিয়ে “গুরুতর সন্দেহ” তৈরি হয়েছে।
  • ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে উপকূলীয় নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল (CRZ) আইনের অধীনে দেওয়া অনুমোদন বহাল থাকল।
  • এর আগে জাতীয় পরিবেশ আদালত (NGT) একই আবেদন খারিজ করেছিল।

বাংলাস্ফিয়ার: মুম্বইয়ের বান্দ্রায় আরব সাগরমুখী বাংলো ‘মন্নত’-এ আরও দুই তলা নির্মাণের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতার অবসান ঘটাল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দিল, আবেদনকারীর উদ্দেশ্য নিয়েই আদালতের গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। ফলে শাহরুখ খানের স্বপ্নের বাড়িতে সপ্তম ও অষ্টম তলা নির্মাণের পথ কার্যত সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেল।

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আদালত স্পষ্ট ভাষায় বলে, “একবার যদি আবেদনকারীর উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে আমরা এই আবেদন শুনব না।” এই মন্তব্যের পরই আবেদনটি খারিজ করে দেওয়া হয়।

মামলাটি করেছিলেন সমাজকর্মী সন্তোষ দাউন্ডকর। তাঁর অভিযোগ ছিল, ‘মন্নত’-এ অতিরিক্ত দুই তলা নির্মাণের জন্য ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যে উপকূলীয় নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল (Coastal Regulation Zone বা CRZ) সংক্রান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা পরিবেশ আইনের পরিপন্থী। সেই অনুমোদন বাতিলের দাবিতেই তিনি প্রথমে জাতীয় পরিবেশ আদালতের (NGT) দ্বারস্থ হন।

তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই NGT সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর দাউন্ডকর সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। সেখানে তিনি শাহরুখ খানের স্ত্রী গৌরী খানকেও মামলার পক্ষভুক্ত করেন। কিন্তু শীর্ষ আদালত NGT-এর সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে।

শুনানির সময় বেঞ্চ আবেদনকারীর আচরণ ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আদালতের মতে, মামলার নথিপত্র এবং পরিস্থিতি বিচার করে আবেদনকারীর সদিচ্ছা সম্পর্কে “গুরুতর সন্দেহ” তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আদালত আর বিষয়টির মেরিটে প্রবেশ করেনি।

এই রায়ের ফলে মুম্বইয়ের অন্যতম পরিচিত আবাসন ‘মন্নত’-এ সম্প্রসারণ প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনও বিচারিক বাধা রইল না। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে সিআরজে ছাড়পত্র দিয়েছিল, তা কার্যত বহাল থাকল।

‘মন্নত’ শুধু শাহরুখ খানের বাসভবন নয়, তাঁর অনুরাগীদের কাছেও একটি প্রতীকী স্থান। প্রতিদিন অসংখ্য ভক্ত এই বাড়ির সামনে ভিড় জমান অভিনেতার এক ঝলক দেখার আশায়। সেই বহুল পরিচিত প্রাসাদোপম বাড়ির সম্প্রসারণ নিয়ে পরিবেশগত প্রশ্ন তুলে যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছিল, তার ইতি টানল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

এই রায়ে সুপ্রিম কোর্ট আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিল— জনস্বার্থের নামে দায়ের হওয়া মামলায় আবেদনকারীর উদ্দেশ্য বা বোনা ফাইড (সদিচ্ছা) নিয়ে যদি আদালতের মনে সন্দেহ তৈরি হয়, তবে সেই আবেদন শুনতে আদালত বাধ্য নয়। ফলে ভবিষ্যতে জনস্বার্থ মামলার ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচার্য বিষয় হয়ে থাকবে।