হাইলাইটস:
- বিকানেরে কুখ্যাত গ্যাংস্টার রোহিত গডারার বাড়ির বড় অংশ রাতারাতি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
- প্রশাসন ও পুলিশ দাবি করেছে, এই ভাঙচুরে তাদের কোনও ভূমিকা নেই।
- কারা এই অভিযান চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
রাজস্থানের বিকানের জেলায় ফের চর্চায় কুখ্যাত পলাতক গ্যাংস্টার রোহিত গডারা। এবার তার কথিত পৈতৃক বাড়ির বড় অংশ রাতারাতি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য, কারণ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ—উভয়েই জানিয়েছে, এটি তাদের কোনও সরকারি অভিযান নয়। ফলে কারা এই ভাঙচুর চালাল এবং কী উদ্দেশ্যে তা করা হল, সেটাই এখন তদন্তের মূল বিষয়।
লুণকরণসর এলাকার তেজনা ধানিতে অবস্থিত দোতলা বাড়িটির পিছনের বড় অংশ সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। সামনের দিকেও দেওয়াল, দরজা ও জানালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গভীর রাতে ভারী যন্ত্রের শব্দ শোনা গিয়েছিল। সকালে বাড়িটি ভাঙা অবস্থায় দেখে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে বহু মানুষ ভিড় জমান।
বিকানেরের পুলিশ সুপার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ভাঙচুরে পুলিশের কোনও ভূমিকা নেই। তাঁর কথায়, এখনও পর্যন্ত কে বা কারা এই কাজ করেছে, তা জানা যায়নি। গডারার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার সময়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কয়েক দিন আগেই মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআইয়ের একটি অভিযোগপত্রে রোহিত গডারার নাম উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানের প্রেক্ষাপটে গডারার বিরুদ্ধে নতুন করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি লরেন্স বিষ্ণোই ও গোল্ডি ব্রারের অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে তদন্তকারীদের দাবি।
এদিকে গডারার পরিবারের ওপরও আইনি চাপ বাড়ছে। সম্প্রতি চাঁদাবাজির একটি মামলায় তাঁর বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা গডারা চক্রকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন।
রোহিত গডারা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার হিসেবে পরিচিত। খুন, চাঁদাবাজি, সুপারি কিলিং-সহ একাধিক গুরুতর অপরাধে তাঁর নাম জড়িয়েছে। বর্তমানে তিনি বিদেশে আত্মগোপন করে অপরাধচক্র পরিচালনা করছেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা। বাড়ি ভাঙার ঘটনাটি তাই শুধুমাত্র একটি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা নয়; এর নেপথ্যে অপরাধচক্রের অন্তর্দ্বন্দ্ব, প্রতিশোধ অথবা অন্য কোনও সংগঠিত পদক্ষেপ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।