ডালাস: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে ফ্রান্স শিবিরে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। তরুণ মিডফিল্ডার ওয়ারেন জায়ের-এমেরি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, দুই বছর আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের ক্ষত এখনও ভোলেননি তাঁরা। এবার সেই হার শোধ করারই সময় এসেছে।
মঙ্গলবার ডালাসে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি। ২০২৪ সালের ইউরো সেমিফাইনালে মিউনিখে স্পেনের কাছে পরাজিত হয়েছিল ফ্রান্স। সেই স্পেনই পরে শিরোপা জিতেছিল। কিন্তু জায়ের-এমেরির দাবি, সেই দলের সঙ্গে বর্তমান ফ্রান্সের কোনও তুলনাই হয় না।
“আমার মনে হয়, আমরা এখন সম্পূর্ণ আলাদা দল,” ম্যাচের আগের দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন ২০ বছর বয়সি এই মিডফিল্ডার। “আমরা প্রস্তুত। আমরা স্পেনকে হারাতে চাই, ইউরোর সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চাই। সেমিফাইনালে আমাদের সম্পূর্ণ মনোযোগী থাকতে হবে। আমরা সেটাই করব। আমরা মাঠে নিজেদের সেরাটা দেব।”
ইউরো ২০২৪-এ জায়ের-এমেরি ফ্রান্স দলে থাকলেও একটি ম্যাচেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি। চলতি বিশ্বকাপে মরক্কোর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমবার বড় টুর্নামেন্টে খেলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার পর এখন তাঁর সামনে আরও বড় মঞ্চ—বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল।
সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের বৈচিত্র্যময় দল নিয়ে প্রাক্তন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয়-এর বিতর্কিত মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। রাহয় দাবি করেছিলেন, “ফ্রান্স দলে কোনও ফরাসি নেই”—যা বর্ণবাদী মন্তব্য বলে সমালোচিত হয়েছে।
জায়ের-এমেরি অবশ্য শান্তভাবেই জবাব দেন। “আমি তাঁর মন্তব্য পড়িনি,” বলেন তিনি। “তবে এই ফরাসি দলে বিভিন্ন পটভূমি ও বিভিন্ন উৎস থেকে আসা ফুটবলার রয়েছে। আর সেটাই ফ্রান্সের পরিচয়। আমরা ঐক্যবদ্ধ একটি দল। একসঙ্গে থাকতে আমরা আনন্দ পাই। সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
এদিকে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ সেমিফাইনালের আগে একমাত্র পরিবর্তন হিসেবে অরেলিয়াঁ চুয়ামেনিকে প্রথম একাদশে ফেরানোর কথা ভাবছেন। পেশির চোটের কারণে শেষ দুটি ম্যাচ খেলতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার। তবে দেশঁ জানিয়েছেন, তিনি এখন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।
চুয়ামেনি যদি পুরোপুরি ফিট থাকেন, তা হলে কোয়ার্টার ফাইনালে দারুণ খেলা মানু কোনোকে বেঞ্চে বসতে হতে পারে।
অন্যদিকে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়েও স্বস্তির খবর দিয়েছেন দেশঁ। মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচে গোড়ালিতে আঘাত পাওয়ার পর সোমবার অনুশীলনের শেষ অংশে তাঁকে দেখা যায়নি। ফলে তাঁর খেলা নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছিল।
দেশঁ সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “হ্যাঁ, ও অনুশীলন করেছে। একটি অনুশীলনে ১৫ মিনিটের বদলে ওকে ১০ মিনিট অংশ নিতে দেওয়া হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।”
স্পেনকে এই ম্যাচে ফেবারিট বলে আগেই মন্তব্য করেছিলেন দেশঁ। ম্যাচের আগের দিনও সেই অবস্থান থেকে সরলেন না তিনি।
দেশঁ বলেন, “আমি এখনও একই কথা বলছি। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচটা ভুলে যান। তারপর থেকে স্পেন প্রমাণ করেছে যে ওরাই এই প্রতিযোগিতার অন্যতম বড় দাবিদার।”
তবে এই মন্তব্যকে প্রতিপক্ষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি।
“আমি লুইস দে লা ফুয়েন্তে বা তাঁর দলের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চাই না। সবাই স্পেনের কাছ থেকে বড় কিছু প্রত্যাশা করছে, সেটা ওঁরা জানেন। আমাদের ধারণা, এটি দুটি আক্রমণাত্মক দলের মধ্যে দারুণ এক লড়াই হবে। তবে লুইস যেমন রক্ষণ সামলাতে জানেন, আমিও জানি।”
জায়ের-এমেরির মতো প্রতিশোধের কথা অবশ্য মুখে আনতে চাননি দেশঁ। ইউরো ২০২৪-এর পাশাপাশি গত বছরের নেশনস লিগের সেমিফাইনালেও ৫-৪ গোলে স্পেনের কাছে হেরেছিল ফ্রান্স। কিন্তু অতীতের সেই ফলাফলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি।
দেশঁর কথায়, “এখানে শেখার মতো কোনও বিশেষ শিক্ষা নেই। এটি হবে মানসিক দৃঢ়তার লড়াই। প্রতিশোধের প্রশ্নই ওঠে না। অতীত অতীতেই রয়েছে। আমার সমস্ত মনোযোগ আগামীকালের ম্যাচে। যদি পুরনো স্মৃতি ফুটবলারদের বাড়তি অনুপ্রেরণা দেয়, তাতে ভালোই। কিন্তু আগের দুটি ম্যাচের গুরুত্ব কমাচ্ছি না বলেই বলছি—এটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। এর গুরুত্ব সম্পূর্ণ আলাদা।”