হাইলাইটস
- ‘জুরাসিক পার্ক’-খ্যাত নিউজিল্যান্ডের অভিনেতা স্যাম নিল ৭৮ বছর বয়সে প্রয়াত।
- সিডনিতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
- রক্তের ক্যানসারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর চলতি বছরই ক্যানসারমুক্ত হওয়ার খবর দিয়েছিলেন।
- পাঁচ দশকেরও বেশি অভিনয়জীবনে ৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয়।
- ‘দ্য পিয়ানো’, ‘ডেড ক্যাল্ম’, ‘দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর’, ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-সহ অসংখ্য স্মরণীয় কাজ রেখে গেলেন।
- তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন স্টিভেন স্পিলবার্গ, নিকোল কিডম্যান, রিচার্ড ই. গ্রান্ট-সহ বহু তারকা।
নিজস্ব প্রতিবেদন: ডাইনোসরের দুনিয়ায় কোটি কোটি দর্শককে পথ দেখানো সেই মানুষটি আর নেই। ‘জুরাসিক পার্ক’-এর কিংবদন্তি জীবাশ্মবিদ ড. অ্যালান গ্র্যান্ট চরিত্রে অমর হয়ে থাকা নিউজিল্যান্ডের প্রখ্যাত অভিনেতা স্যাম নিল প্রয়াত। সোমবার সিডনিতে ৭৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর পাশে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর মৃত্যু ছিল হঠাৎ এবং অপ্রত্যাশিত। যদিও ২০২৩ সালে বিরল ধরনের রক্তের ক্যানসার অ্যাঞ্জিওইমিউনোব্লাস্টিক টি-সেল লিম্ফোমা-য় আক্রান্ত হওয়ার কথা নিজেই প্রকাশ করেছিলেন স্যাম নিল। দীর্ঘ চিকিৎসার পর চলতি বছর তিনি আনন্দের সঙ্গে জানিয়েছিলেন, তাঁর শরীরে আর ক্যানসারের কোনও চিহ্ন নেই। সেই কারণেই তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ আরও বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে অনুরাগীদের কাছে।
১৯৯৩ সালে স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত ‘জুরাসিক পার্ক’-এ ড. অ্যালান গ্র্যান্টের ভূমিকায় অভিনয় করেই বিশ্বজোড়া খ্যাতি পান স্যাম নিল। ডাইনোসরের ভয়ংকর পৃথিবীতেও বিজ্ঞানমনস্ক, সংযত এবং সাহসী চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও সিনেমাপ্রেমীদের কাছে অনন্য। পরে ‘জুরাসিক পার্ক III’ এবং ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড: ডমিনিয়ন’-এও একই চরিত্রে ফিরে এসে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মন জয় করেন।
তবে তাঁর কেরিয়ার শুধু ‘জুরাসিক’ সিরিজেই সীমাবদ্ধ নয়। পাঁচ দশকেরও বেশি দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি একের পর এক স্মরণীয় ছবিতে অভিনয় করেছেন। ‘দ্য পিয়ানো’, ‘ডেড ক্যাল্ম’, ‘দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর’, ‘অ্যা ক্রাই ইন দ্য ডার্ক’, ‘ইন দ্য মাউথ অব ম্যাডনেস’, ‘ইভেন্ট হরাইজন’ এবং জনপ্রিয় সিরিজ ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’—সব ক্ষেত্রেই তাঁর অভিনয় সমানভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কেরিয়ারে একাধিকবার গোল্ডেন গ্লোব ও এমি পুরস্কারের মনোনয়নও পেয়েছিলেন তিনি।
১৯৪৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তর আয়ারল্যান্ডের ওমাহ শহরে জন্ম স্যাম নিলের। শৈশবে পরিবার নিয়ে নিউজিল্যান্ডে চলে আসেন। ১৯৭৭ সালের ‘স্লিপিং ডগস’ ছবির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়ার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও হলিউড—তিন ক্ষেত্রেই তিনি সমান সফল ছিলেন।
অভিনয়ের বাইরেও প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন স্যাম নিল। নিউজিল্যান্ডে তাঁর নিজস্ব আঙুরখেত ও ওয়াইনারি টু প্যাডক্স ছিল। সামাজিক মাধ্যমে নিজের খামারের পশুপাখি ও গ্রামীণ জীবনের নানা মুহূর্ত ভাগ করে নিয়ে ভক্তদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন আরও আপন।
তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগৎ। পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ তাঁকে স্মরণ করে বলেন, “স্যাম ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান, উষ্ণ হৃদয়ের এবং বিরল মানবিক একজন মানুষ।” অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান, অভিনেতা রিচার্ড ই. গ্রান্ট, সিলিয়ান মারফি-সহ বহু তারকা সামাজিক মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, “স্যাম নিল শুধু একজন মহান অভিনেতাই নন, তিনি ছিলেন নিউজিল্যান্ডের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক দূত।”
স্যাম নিল চলে গেলেও তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলি থেকে যাবে চিরকাল। ড. অ্যালান গ্র্যান্টের বিস্ময়ভরা চোখ, তাঁর সংযত অভিনয়, আর পর্দায় তাঁর অনন্য উপস্থিতি আগামী প্রজন্মের কাছেও তাঁকে অমর করে রাখবে।