ছবিতে টম ক্রুজ অভিনয় করেছেন ডিগার রকওয়েল নামে এক বিতর্কিত শিল্পপতি ও ধনকুবেরের চরিত্রে। অভিযোগ, তাঁর সংস্থার লাগামছাড়া কর্মকাণ্ডের ফলেই পৃথিবী ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, কর্পোরেট দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক ব্যঙ্গ—এই তিনের মিশেলে এগিয়েছে ছবির কাহিনি।
ট্রেলারের শুরুতেই দেখা যায়, গ্রিনল্যান্ডের একটি বিশাল হিমবাহ সরে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ডিগার বিষয়টির গুরুত্বই খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেন। তাঁর ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য, “হিমবাহটা তো মাত্র পাঁচ ফুট সরে গেছে, আমার টেবিলই তার চেয়ে বড়!”—এই সংলাপই ইতিমধ্যেই ট্রেলারের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলির একটি।
নির্মাতাদের দাবি, ‘ডিগার’ শুধু রাজনৈতিক কমেডি নয়, বরং জলবায়ু সংকট, পরিবেশ ধ্বংস এবং কর্পোরেট লোভের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ। বাস্তব বিশ্বের নানা বিতর্ককে কালো রসিকতার মোড়কে তুলে ধরে দর্শকদের শুধু বিনোদনই নয়, ভাবনারও খোরাক দিতে চায় ছবিটি।
তবে ট্রেলারের সবচেয়ে বড় চমক নিঃসন্দেহে টম ক্রুজের অভিনয়। এতদিন যাঁকে মূলত অ্যাকশন নায়ক হিসেবেই দেখা গিয়েছে, এবার তিনি সেই ইমেজ ভেঙে সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার চরিত্রে। তাঁর শরীরী ভাষা, হাঁটা, কথা বলার ভঙ্গি, মুখের অভিব্যক্তি—সবকিছুতেই রয়েছে আমূল পরিবর্তন। অনেক দর্শকেরই দাবি, ট্রেলার না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন যে পর্দায় দেখা মানুষটিই টম ক্রুজ।
হলিউডে অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, নিজের কেরিয়ারের অন্যতম সাহসী চরিত্রে অভিনয় করতে চলেছেন এই তারকা। ট্রেলার প্রকাশের পর সেই জল্পনা যেন আরও জোরালো হয়েছে।
ভিজ্যুয়ালের দিক থেকেও ছবিটি নজর কেড়েছে। গলতে থাকা হিমবাহ, ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কর্পোরেট ক্ষমতার সংঘাত—সব মিলিয়ে নির্মাতারা তৈরি করেছেন বিশাল ক্যানভাস। তবে গম্ভীর বিষয়বস্তুর মধ্যেও ব্যঙ্গ ও কালো হাস্যরসের ছাপ স্পষ্ট।
পরিবেশবিদদের একাংশের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে জনপ্রিয় সিনেমার মাধ্যমে তুলে ধরার উদ্যোগ ইতিবাচক। আবার সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক ব্যঙ্গ কতটা কার্যকর হয়েছে, তার আসল পরীক্ষা হবে ছবি মুক্তির পর।
টম ক্রুজের অনুরাগীদের কাছে অবশ্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তাঁর এই অভূতপূর্ব রূপান্তর। বিপজ্জনক স্টান্টের জন্য পরিচিত অভিনেতা এবার অভিনয়ের একেবারে নতুন দিক তুলে ধরতে চলেছেন বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকেরা।
ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই ‘ডিগার’ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। জলবায়ু সংকটের মতো গুরুতর বিষয়কে ব্যঙ্গ, কৌতুক এবং তীক্ষ্ণ সামাজিক মন্তব্যের সঙ্গে কীভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।