হাইলাইটস:

  • রাজ্যের প্রতিটি রথযাত্রা আয়োজককে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা।
  • জলযাত্রীদের উপর গোলাপের পাপড়ি বর্ষণের ব্যবস্থাও করছে রাজ্য সরকার।
  • প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহণে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পরিসর আরও বড় হচ্ছে।
  • বিরোধীদের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে পৃষ্ঠপোষকতা করা কতটা সংবিধানসম্মত।
  • সরকারের দাবি, সব ধর্মের অনুষ্ঠানেই সমানভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিমবঙ্গে রথযাত্রাকে ঘিরে এ বার নজিরবিহীন সরকারি উদ্যোগের ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি রথযাত্রা আয়োজক কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত ‘জলযাত্রী’দের উপর হেলিকপ্টার বা অন্য ব্যবস্থায় গোলাপের পাপড়ি বর্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে সরকারি উদ্যোগে।

সরকারি সূত্রের দাবি, রথযাত্রা বাংলার অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণে এই উৎসবকে আরও সুষ্ঠু ও নিরাপদ করে তুলতেই এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অনুদানের অর্থ ব্যবহার করা যাবে নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা, পানীয় জল, শৌচাগার, চিকিৎসা শিবির, ব্যারিকেড এবং অন্যান্য জনপরিষেবামূলক কাজে।

এ ছাড়া রথযাত্রার আগে অনুষ্ঠিত জলযাত্রা কর্মসূচিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বহু জায়গায় জলযাত্রীদের স্বাগত জানাতে গোলাপের পাপড়ি বর্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। সরকারের বক্তব্য, এটি ধর্মীয় ভক্তদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতিরও বার্তা বহন করবে।

তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিরোধী শিবির তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ, করদাতাদের অর্থ সরাসরি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য ব্যয় করা সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিরোধীদের আরও প্রশ্ন, রাজ্যের আর্থিক সংকট, বেকারত্ব, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ধর্মীয় উৎসবে বিপুল সরকারি অর্থ বরাদ্দের যৌক্তিকতা কী?

সরকার অবশ্য এই অভিযোগ খারিজ করেছে। তাদের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বহু বছর ধরেই বিভিন্ন ধর্মের উৎসব ও অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। দুর্গাপুজো, গঙ্গাসাগর মেলা, ছটপুজো, বড়দিন, ঈদ কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করে। রথযাত্রার ক্ষেত্রেও সেই নীতিরই অনুসরণ করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলার রাজনীতিতে ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সরকারি উদ্যোগ নতুন নয়। তবে প্রতিটি রথযাত্রা কমিটিকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অনুদান এবং জলযাত্রীদের জন্য ফুলবৃষ্টির মতো প্রতীকী আয়োজন সরকারের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বার্তা—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনগুলিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথায় কতগুলি রথযাত্রা হবে, কোন কমিটি অনুদান পাবে, নিরাপত্তা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কীভাবে হবে—তা নিয়ে পৃথক পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। পুলিশ, দমকল, স্বাস্থ্য দফতর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

রথযাত্রা ঘিরে সরকারি এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে উৎসবের জৌলুস বাড়াবে। কিন্তু একই সঙ্গে সরকারি অর্থের ব্যবহার, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের ভূমিকা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কও উসকে দিল। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।