- ভিয়েতনামের ফু কুয়ক দ্বীপের কাছে পর্যটকবাহী স্পিডবোট উল্টে ১৫ ভারতীয়ের মৃত্যু।
- মৃতদের মধ্যে ১০ জন তামিলনাড়ু, ৩ জন অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ২ জন কেরলের বাসিন্দা।
- মোবাইল সংস্থা লাভা মোবাইলস বিক্রয়-লক্ষ্যমাত্রা পূরণকারী ডিলার ও পরিবেশকদের জন্য এই ভ্রমণের আয়োজন করেছিল।
- ৩৬ জন আরোহীর মধ্যে ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
- বেঁচে ফেরা যাত্রীরা জানিয়েছেন, আচমকা বিশাল ঢেউয়ের ধাক্কায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই উল্টে যায় নৌকাটি।
ভিয়েতনামের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ফু কুয়ক দ্বীপের কাছে মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় আরও বহু যাত্রী আহত হন। উদ্ধারকারীরা ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও বহু পরিবারের আনন্দভ্রমণ মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয় শোকাবহ ট্র্যাজেডিতে।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোন নির্মাতা সংস্থা লাভা মোবাইলস তাদের ডিলার ও পরিবেশকদের জন্য এই বিদেশ সফরের আয়োজন করেছিল। বিক্রির নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করায় পুরস্কার হিসেবে এই ভ্রমণের সুযোগ পান তাঁরা।
সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, ফু কুয়কের আন থই দ্বীপপুঞ্জের হন মে রুট ন্গোয়াই দ্বীপের প্রায় ৪০০ মিটার দূরে স্পিডবোটটি উল্টে যায়। নৌকায় মোট ৩৬ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩২ জন ভারতীয় পর্যটক এবং চারজন স্থানীয় নৌকাকর্মী। দুর্ঘটনার পরপরই বড়সড় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
মৃতদের মধ্যে ১০ জন তামিলনাড়ুর, তিনজন অন্ধ্রপ্রদেশের এবং দু’জন কেরলের বাসিন্দা। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে ফেরা তামিলনাড়ুর বাসিন্দা মুরুগারাজ জানিয়েছেন, সকালবেলায় নৌকাটি উপকূল ছেড়ে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে পৌঁছেছিল। সেই সময় যাত্রীরা সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন এবং অনেকে ছবি তুলছিলেন। আচমকাই একটি বিশাল ঢেউ নৌকাটিতে আছড়ে পড়ে।
তাঁর কথায়, ঢেউয়ের ধাক্কায় নৌকাটি হঠাৎ ডানদিকে কাত হয়ে যায়। যাত্রীরা একে অপরের উপর পড়ে যান। কেউ কিছু বোঝার আগেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নৌকাটি উল্টে যায় এবং সবাই সমুদ্রে ছিটকে পড়েন।
আরও এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথমে কেউই বিপদের গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। অনেকেই ভেবেছিলেন নৌকাটি আবার সোজা হয়ে যাবে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সেটি সম্পূর্ণ উল্টে যায়। চারদিকে শুরু হয় চিৎকার, আতঙ্ক এবং প্রাণ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা।
দুর্ঘটনার পরে স্থানীয় জেলেরা, উদ্ধারকারী নৌযান এবং প্রশাসনের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। সমুদ্রে ভেসে থাকা যাত্রীদের একে একে তুলে আনা হয়। তবে বেশ কয়েকজনকে দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে আটকে থাকতে হওয়ায় তাঁদের আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ভিয়েতনামের প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে প্রবল ঢেউ এবং আকস্মিক প্রতিকূল সমুদ্র পরিস্থিতিকেই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নৌকাটির নিরাপত্তাব্যবস্থা, যাত্রী ধারণক্ষমতা এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কতা যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তাও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।
ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে উদ্ধার, চিকিৎসা এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার কাজে সহায়তা করছে। দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছে ভারত সরকারও। এই মর্মান্তিক ঘটনায় একাধিক রাজ্যের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।