Home খবর এয়ার ফোর্স ওয়ান বিতর্কে সাংবাদিকদের সমন, তোপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

এয়ার ফোর্স ওয়ান বিতর্কে সাংবাদিকদের সমন, তোপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
49 views 4 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • এয়ার ফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকদের গ্র্যান্ড জুরির সমন
  • ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, লক্ষ্য সাংবাদিক নন, গোপন তথ্য ফাঁসকারীদের খুঁজে বের করা
  • সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে সরব প্রেস সংগঠনগুলি, বাড়ছে বিতর্ক
  • কেন্দ্রে কাতারের উপহার দেওয়া ৪০ কোটি ডলারের নতুন প্রেসিডেন্টের বিমান

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একাধিক সাংবাদিককে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির সামনে হাজিরার সমন পাঠিয়েছে মার্কিন বিচার দফতর। এই পদক্ষেপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, শুক্রবার সাংবাদিকদের হাতে সমন পৌঁছে দেওয়া হয় এবং মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির সামনে হাজির হতে বলা হয়। কয়েকজন সাংবাদিকের বাড়িতে গিয়ে এফবিআইয়ের প্রতিনিধিরা সমন পৌঁছে দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে সংবাদপত্রটি। সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে এটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

    তবে বিচার দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্তের লক্ষ্য সাংবাদিকরা নন। তাদের বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোপন তথ্য কীভাবে প্রশাসনের ভেতর থেকে বাইরে এল, সেটিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত উদ্দেশ্য তথ্য ফাঁসকারীদের শনাক্ত করা।

    কিন্তু এই ব্যাখ্যায় আশ্বস্ত নয় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা সংগঠনগুলি। ওয়াশিংটনভিত্তিক ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের বক্তব্য, সাংবাদিকদের এভাবে সমন পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানপ্রদত্ত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত। তারা অবিলম্বে সমন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

    ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি প্রধান সেথ স্টার্নের কথায়, সরকার যখন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে সাংবাদিকদের চাপে ফেলে, তখন মূল উদ্দেশ্য অনেক সময় নিজেদের অস্বস্তিকর তথ্য আড়াল করা। তাঁর মতে, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার চেয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    নিউ ইয়র্ক টাইমসের আইনজীবী ডেভিড ম্যাকক্রওও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সাংবাদিকদের বাড়ির দরজায় ফেডারেল তদন্তকারীদের পৌঁছে যাওয়া স্বাধীন সংবাদমাধ্যমে বিশ্বাসী প্রত্যেক নাগরিকের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

    অবাক করার মতো বিষয়, ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফক্স নিউজের প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা সংবাদদাতা জেনিফার গ্রিফিনও এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতির বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে বৈধ সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের আইনি চাপে ফেলা গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ লক্ষণ নয়।

    বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে কাতারের উপহার দেওয়া প্রায় ৪০ কোটি ডলার মূল্যের নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান। গত ১ জুলাই প্রথমবার এই বিমান ব্যবহার করে নর্থ ডাকোটায় গিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতেও তিনি একই বিমান ব্যবহার করেন।

    তবে ফেরার পথে তিনি পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে যাত্রা করায় জল্পনা শুরু হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে, একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, নতুন বিমানটিতে পুরনো প্রেসিডেন্টের বিমানের মতো অ্যান্টি-মিসাইল ব্যবস্থা এবং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ঘাটতি রয়েছে। এমনকি সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শেই ট্রাম্প পুরনো বিমান ব্যবহার করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    ট্রাম্প অবশ্য সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নিরাপত্তা নিয়ে কোনও উদ্বেগ ছিল না। ইরানের সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে হুমকি তো সব সময়ই থাকে। আমি ওদের তালিকায় এক নম্বরে।”

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চিউংও দাবি করেছেন, নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সজ্জিত। তাঁর কথায়, পুরো সফরে একই বিমান ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত ছিল নিরাপত্তাজনিত একটি কৌশলগত বিভ্রান্তিমূলক পদক্ষেপ।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস আরও জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে এফবিআইয়ের এক শীর্ষ আধিকারিক সংবাদপত্রটির সঙ্গে যোগাযোগ করে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে খবরটি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছিলেন। যদিও সেই অনুরোধের পক্ষে নির্দিষ্ট কোনও কারণ জানানো হয়নি।

    প্রতিবেদন প্রকাশের পর জুলিয়ান ই. বার্নস, এরিক লিপটন, টাইলার পেজার এবং এরিক স্মিট-সহ একাধিক সাংবাদিকের কাছে গ্র্যান্ড জুরির সমন পৌঁছায়।

    সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং নিউজগিল্ড অব নিউ ইয়র্কও। সংগঠনের সভাপতি ওয়েইজিয়া জিয়াং বলেন, সাংবাদিকদের তাঁদের তথ্যসূত্র প্রকাশে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে যে কোনও ধরনের ভয় দেখানোর কৌশলের বিরোধিতা করা হবে।

    উল্লেখ্য, গত জুন মাসেও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের তদন্তে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিকদের সমন পাঠানো হয়েছিল। পরে আদালতে আপত্তির মুখে সেই সমন প্রত্যাহার করে বিচার দফতর।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যান্ড জুরি ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ গঠনের প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। তবে ট্রাম্পের দুই দফার প্রেসিডেন্সিতেই সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক চাপের অভিযোগ বারবার উঠেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকদের এই নতুন সমন সেই বিতর্ককেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles