Home খবর ‘ওডিসি’ বিতর্কে নোলানের সাফাই

‘ওডিসি’ বিতর্কে নোলানের সাফাই

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
36 views 4 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • The Odyssey-তে আধুনিক ইংরেজি সংলাপ ব্যবহারের সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করলেন ক্রিস্টোফার নোলান।
  • তাঁর মতে, ভাষার উদ্দেশ্য ইতিহাসের হুবহু পুনর্নির্মাণ নয়, দর্শকের আবেগের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা।
  • ট্রেলার প্রকাশের পর টম হল্যান্ড ও রবার্ট প্যাটিনসনের সংলাপ ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক।
  • নোলানের দাবি, তিনি কাহিনিকে আরও স্বাভাবিক, প্রাণবন্ত ও মানুষের কাছাকাছি করে তুলতে চেয়েছেন।
  • এই সিদ্ধান্তের জন্য সমালোচনা হতে পারে বলেও স্বীকার করেছেন পরিচালক।

মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রে ক্রিস্টোফার নোলান-এর The Odyssey। তবে তারকাখচিত কাস্ট বা বিশাল প্রযোজনার চেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ছবির ভাষা নিয়ে। হোমারের প্রায় তিন হাজার বছরের পুরনো মহাকাব্যকে বড় পর্দায় আনতে গিয়ে নোলান বেছে নিয়েছেন আধুনিক কথ্য ইংরেজি। আর সেই সিদ্ধান্তই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে অনেক দর্শক ও সমালোচককে।

তবে সমালোচনার জবাব দিতে একটুও পিছপা নন নোলান। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ঐতিহাসিক নিখুঁততা নয়, দর্শকের আবেগে পৌঁছনোই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রেলার থেকেই বিতর্কের শুরু

ছবির প্রথম ঝলক প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।

ট্রেলারে টম হল্যান্ড, যিনি টেলেম্যাকাস চরিত্রে অভিনয় করছেন, বলেন, “My father is coming home.” অন্য একটি দৃশ্যে রবার্ট প্যাটিনসনের চরিত্র তাঁকে উদ্দেশ করে বলে, “You’re obsessed with a father you never even knew.”

এই আধুনিক কথ্য ইংরেজি শুনেই অনেকের প্রশ্ন—প্রাচীন গ্রিসের মহাকাব্যে এমন ভাষা কি মানানসই?

‘ভাষা যেন আবেগে পৌঁছয়’

Los Angeles Times-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নোলান বলেন, তিনি এমন ভাষা ব্যবহার করতে চেয়েছেন, যা দর্শক শুধু বুঝবেন না, অনুভবও করবেন।

তাঁর কথায়, “আমি এমন ভাষা চেয়েছিলাম, যার অর্থ মানুষ আবেগ দিয়ে বুঝতে পারে, শুধু বুদ্ধি দিয়ে নয়।”

নোলানের মতে, দর্শক যদি সংলাপের ভাষা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তাহলে চরিত্রের অনুভূতি ও গল্পের গভীরতা হারিয়ে যেতে পারে।

‘মাটির কাছাকাছি’ গল্প

পরিচালকের দাবি, তিনি The Odyssey-কে জাদুঘরের নিদর্শনের মতো তুলে ধরতে চাননি। বরং এমন এক গল্প হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন, যা আজকের দর্শকের কাছেও সমান প্রাসঙ্গিক।

তাঁর মতে, ওডিসিউসের কাহিনি শুধু প্রাচীন ইতিহাস নয়; এটি পরিবার, বিচ্ছেদ, অপেক্ষা, বিশ্বস্ততা এবং ঘরে ফেরার এক চিরন্তন মানবিক গল্প।

তাই ভাষাও হওয়া উচিত এমন, যা আজকের মানুষ সহজেই নিজের বলে অনুভব করতে পারেন।

সমালোচনার আশঙ্কাও মানছেন

নোলান অবশ্য স্বীকার করেছেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য উল্টো ফলও বয়ে আনতে পারে।

তিনি বলেন, হয়তো বিষয়টিকে খুব সরলভাবে দেখেছেন, আর সেই কারণেই সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে। তবু তাঁর বিশ্বাস, স্বাভাবিক ও জীবন্ত ভাষাই গল্পকে দর্শকের আরও কাছে নিয়ে যাবে।

বিতর্ক থামার লক্ষণ নেই

সমালোচকদের একাংশের মত, মহাকাব্যের ঐতিহাসিক আবহ বজায় রাখতে তুলনামূলক শাস্ত্রীয় বা নিরপেক্ষ ভাষাশৈলীই বেশি উপযুক্ত। তাঁদের আশঙ্কা, আধুনিক শব্দচয়ন দর্শককে সময়ের বিভ্রম থেকে বের করে আনতে পারে।

অন্যদিকে নোলানের সমর্থকদের যুক্তি, হোমারের Odyssey হাজার বছর ধরে বেঁচে আছে তার মানবিক আবেগের জন্য, ভাষার আড়ম্বরের জন্য নয়।

এই বিতর্কে শেষ পর্যন্ত কে জিতবে, তার উত্তর মিলবে ছবি মুক্তির পরই। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ক্রিস্টোফার নোলান অতীতকে শুধু পুনর্নির্মাণ করতে চাননি, তিনি চেয়েছেন সেই অতীতকে আজকের দর্শকের অনুভূতির অংশ করে তুলতে। আর সেই লক্ষ্যেই তাঁর এই সাহসী ভাষাগত পরীক্ষা।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles