Table of Contents
শিশু নির্যাতন বিজ্ঞাপন বিতর্কে চাপ বাড়ছে
হাইলাইটস:
- শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন বিতর্কে মুখ খুলল মেটা।
- অভিযোগ উড়িয়ে সংস্থার দাবি, এমন বিজ্ঞাপন ইচ্ছাকৃতভাবে দেখানো হয়নি।
- ২০২৫ সালে ৪০ লক্ষের বেশি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট সরানোর দাবি।
- শিশু সুরক্ষায় এআই-নির্ভর নজরদারি আরও জোরদারের আশ্বাস।
- কেন্দ্রের নোটিসের পর প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিল প্রযুক্তি সংস্থা।
শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত (CSAM) বিজ্ঞাপন বিতর্কে তীব্র চাপে পড়ে অবশেষে মুখ খুলল মেটা। সংস্থার দাবি, শিশুদের যৌন শোষণ বা নির্যাতন-সংক্রান্ত আগ্রহ রয়েছে— এমন ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়নি। এই অভিযোগকে তারা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি ব্লগ পোস্টে মেটা জানায়, তাদের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা কোনওভাবেই এই ধরনের ব্যবহারকারীদের টার্গেট করার জন্য তৈরি নয়। বরং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সন্দেহজনক কার্যকলাপ চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংস্থার দাবি, ২০২৫ সালে শুধুমাত্র স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ৪০ লক্ষেরও বেশি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলিকে শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে শনাক্ত করা হয়েছিল।
ভারতের ঘটনাও স্বীকার
মেটা জানিয়েছে, ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশুদের শোষণ-সংক্রান্ত নীতিভঙ্গকারী কিছু বিজ্ঞাপনের খবর তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থা।
তাদের বক্তব্য, “এই ধরনের কোনও সামগ্রী আমাদের প্ল্যাটফর্মে থাকা আমরা কখনও চাই না। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত আমাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছি।”
এআই-ভিত্তিক নজরদারিতে জোর
মেটার দাবি, বিজ্ঞাপন যাচাই থেকে শুরু করে ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্তকরণ— সব ক্ষেত্রেই এআই-নির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলা, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিশু সুরক্ষার নীতিগুলি আরও কঠোরভাবে কার্যকর করার দিকেই এখন জোর দিচ্ছে সংস্থা।
কেন্দ্রের নোটিসের পর ব্যাখ্যা
সম্প্রতি এই বিতর্কে ভারত সরকার মেটাকে কড়া নোটিস পাঠিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। সেই নোটিসের কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সামাজিক মাধ্যম সংস্থা। তবে সরকারি তদন্তের ফলাফল এবং এই বিতর্কের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর থাকছে।