Home খবর কলকাতার আকাশ থেকে ঝরে গেল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

কলকাতার আকাশ থেকে ঝরে গেল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

by বাংলাস্ফিয়ার
0 comments 29 views 2 minutes read
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: কিছু মানুষ পেশায় ডাক্তার হন, আর কিছু মানুষ তাঁদের অস্তিত্ব দিয়েই চিকিৎসাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। ডা. মনি ছেত্রী ছিলেন সেই দ্বিতীয় ধরনের মানুষ যাঁর কাছে চিকিৎসা শুধু পেশা নয়, এক গভীর নৈতিক দায়, এক অন্তর্গত মানবিক প্রতিশ্রুতি।

তাঁর প্রয়াণ শুধু একজন চিকিৎসকের মৃত্যু নয়; এটি এক যুগের অবসান। এমন এক যুগ, যেখানে রোগী ছিল না “কেস”, ছিল মানুষ—তার ভয়, তার আশা, তার ভাঙাচোরা জীবনের গল্প নিয়ে। ডা. ছেত্রী সেই গল্পগুলো শুনতেন। মন দিয়ে, সময় নিয়ে, কোনো তাড়াহুড়ো ছাড়া। আজকের দ্রুতগামী, সংখ্যায় মাপা চিকিৎসা ব্যবস্থার ভিড়ে তাঁর মতো ধৈর্যশীল শ্রোতা ক্রমেই বিরল হয়ে উঠেছে।

সহকর্মীরা বলেন, তিনি ছিলেন নিখুঁত ক্লিনিশিয়ান; রোগ নির্ণয়ে তাঁর সূক্ষ্ম দৃষ্টি, চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাঁর নির্ভুলতা প্রায় কিংবদন্তির মতো। কিন্তু এইসব বিশেষণের আড়ালেও যে মানুষটি ছিলেন, তিনি আরও বড়। রোগীর হাত ধরে বসে থাকা, পরিবারের উদ্বেগ শুনে নেওয়া, আর সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে আশার আলো জ্বালিয়ে রাখা—এই ছিল তাঁর প্রকৃত পরিচয়।

ডা. ছেত্রীর চেম্বারের বাইরে দীর্ঘ লাইন ছিল, কিন্তু সেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের কাছে তিনি ছিলেন শুধুই “ডাক্তারবাবু”—এক নির্ভরতার নাম। তাঁর কাছে আসা মানে শুধু ওষুধ নয়, এক অদ্ভুত নিশ্চিন্ততা পাওয়া। যেন কেউ আছেন, যিনি শেষ পর্যন্ত পাশে থাকবেন।

চিকিৎসা জগতে তাঁর অবদান শুধু রোগ নিরাময়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। তরুণ ডাক্তারদের তিনি শেখাতেন—“রোগের আগে মানুষকে দেখো।” এই সহজ বাক্যটাই ছিল তাঁর দর্শন। আধুনিক যন্ত্রপাতি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিড়েও তিনি মনে করিয়ে দিতেন, চিকিৎসার মূল সুরটা মানবিকতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি কাজ করে গেছেন একাগ্রতায়, প্রায় নিঃশব্দে। কোনো প্রচার নয়, কোনো আত্মপ্রচার নয়—শুধু কাজ, আর কাজের মধ্যেই নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। তাঁর মতো মানুষদের জন্যই হয়তো ‘পেশা’ শব্দটা ছোট হয়ে যায়।

আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর ছোঁয়া রয়ে গেছে অসংখ্য মানুষের জীবনে যাঁরা তাঁর হাতে সুস্থ হয়েছেন, যাঁরা তাঁর কথায় সাহস পেয়েছেন, যাঁরা তাঁর মানবিকতায় নতুন করে বাঁচতে শিখেছেন। তাঁদের স্মৃতিতে, তাঁদের কৃতজ্ঞতায় ডা. মনি ছেত্রী বেঁচে থাকবেন দীর্ঘদিন।

শেষ পর্যন্ত, তাঁর জীবন যেন এক নীরব শিক্ষা—চিকিৎসা মানে কেবল রোগ সারানো নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আর সেই শিক্ষা, সেই মানবিক উত্তরাধিকারই হয়তো তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles