২০২৬ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Elections) রিপাবলিকান শিবিরকে কোণঠাসা করে মার্কিন কংগ্রেসের দুটি কক্ষ—প্রতিনিধি সভা (House of Representatives) এবং সেনেট (Senate)-এর ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাটন এককভাবে দখল করেছে ডেমোক্র্যাট দল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে হওয়া এই নির্বাচন তাঁর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও একক ক্ষমতা প্রয়োগে বড় আকারের বাধা সৃষ্টি করতে চলেছে। সংবিধানে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আগামী ৩ জানুয়ারি ২০২৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সংসদীয় মেয়াদ শুরু হওয়া পর্যন্ত রিপাবলিকানদের আধিপত্য টিকে থাকলেও, নতুন বছর শুরু হতেই হোয়াইট হাউসকে একের পর এক আইনি ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে।
১. কংগ্রেসীয় নজরদারি ও সমন (Subpoenas) জারির সর্বময় ক্ষমতা
হাউস ও সেনেটের নিয়ন্ত্রণ আসায় ডেমোক্র্যাটরা এখন সমস্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ গ্রহণ করবেন। ফলে তদন্তের অভিমুখ নির্ধারণ, গোপনীয় সরকারি নথি তলব এবং সাক্ষীদের হাজিরা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক ‘সমন’ (Subpoenas) জারির একক আইনি ক্ষমতা থাকবে তাঁদের হাতে। ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জোরদার তদন্ত ও গণশুনানি শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে:
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের সংঘাত (Conflicts of Interest)।
দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন সংক্রান্ত বিচার বিভাগের অপ্রকাশিত ও সংবেদনশীল ফাইলসমূহ।
পেন্টাগন (মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর)-এর সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক সামরিক ব্যয় ও ঠিকাদারি চুক্তি।
২. নীতি প্রণয়ন, বিচারক ও ক্যাবিনেট নিয়োগে চরম বাধা
কংগ্রেসের দুই কক্ষে বিপরীত শক্তির প্রাধান্য থাকায় ট্রাম্প প্রশাসন এখন কোনো একক রাজনৈতিক এজেন্ডা বা বিল পাসের সুযোগ পাবে না। ডেমোক্র্যাটরা তাদের পছন্দমাফিক বিল পাস করাতে সমর্থ না হলেও রিপাবলিকানদের আনা যেকোনো বিলে সরাসরি ভেটো দেওয়ার সুযোগ পাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে সেনেটের মাধ্যমে সরকারি শীর্ষ পদে অনুমোদন প্রক্রিয়ায়। বিচার বিভাগীয় গুরুত্বপূর্ণ বিচারক, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং ক্যাবিনেট সচিব পদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোনীত প্র প্রার্থীদের অনুমোদন আটকে দেওয়া বা ঝুলিয়ে রাখার সরাসরি ক্ষমতা সেনেটে ডেমোক্র্যাটদের থাকবে।
৩. অভিশংসন (Impeachment) বনাম চূড়ান্ত অপসারণের আইনি জটিলতা
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি সভায় সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তাঁর মেয়াদে তৃতীয়বারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে অভিশংসিত (Impeach) করার ক্ষমতা রাখে। তবে অভিশংসন কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা নির্দেশ করে; চূড়ান্ত ক্ষমতা থেকে সরাতে হলে ১০০ সদস্যের সেনেটে দুই-তৃতীয়াংশ (৬৭ জন) সেনেটরের ভোটের প্রয়োজন। সেনেট ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে এলেও দুই-তৃতীয়াংশের জন্য প্রয়োজনীয় আসন তাদের নেই। ফলে কিছু রিপাবলিকান সেনেটর সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনে না এলে অপসারণ কঠিন, তবে তদন্তের মাধ্যম উন্মোচিত নথিপত্র ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে যথেষ্ট।
৪. ঐতিহাসিক শিক্ষা (ট্রাম্প ১.০ বনাম ট্রাম্প ২.০)
২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি সভার দখল পেয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত প্রথম অভিশংসন বিচারে গড়ায়। তবে এবার দুই কক্ষই হাতছাড়া হওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের এই ‘দ্বিগুণ বাধা’র মুখোমুখি হওয়া ট্রাম্প ২.০ প্রশাসনের জন্য আরও বেশি জটিল। একই সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের কাছে ডেমোক্র্যাটরা কেবল বিরোধী দলের ভূমিকা নেবে, নাকি কোনো বাস্তবমুখী সমাধান সামনে আনবে—তাও ২০২৮ সালের নির্বাচনী রণকৌশলে বড় নিয়ামক হয়ে উঠবে।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।