২০২৬ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Elections) রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরণের পরাজয় ও প্রতিনিধি সভা এবং সেনেটে ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্য কায়েমের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া বৈচিত্র্য ও বৈপরীত্যে ভরা। রিপাবলিকান শক্তঘাঁটিগুলোতে পরাজয়ের পর ট্রাম্প একদিকে যেমন ডেমোক্র্যাটদের “সাবাশ” (Good Job) জানিয়ে ফলাফল মেনে নেওয়ার কথা বলেছেন, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রোলিং ও প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতার (Veto) চোখরাঙানি দিয়েছেন।

নির্বাচনের প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ এক বার্তার মাধ্যমে সমস্ত দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি লেখেন, “এই নির্বাচনে ব্যালটে আমি প্রার্থী ছিলাম না, যদি থাকতাম তবে আমরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করতাম (Landslide Victory)! বিষয়টিতে নজর দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ”। পরবর্তীতে নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিনি এই ফলাফলের জন্য একেবারেই তৈরি ছিলেন এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে ইচ্ছুক।

তবে এই নরম সুর বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ফক্স নিউজ-কে (Fox News) দেওয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারে ডেমোক্র্যাটদের কোনো ‘পাগলামিপূর্ণ’ (Insane) বিল পাস করার চেষ্টা হলে প্রেসিডেন্টের বিশেষ ভিটো পাওয়ার (Veto Power) প্রয়োগ করে তা বাতিলের চূড়ান্ত হুমকি দেন তিনি। তিনি স্পষ্ট জানান, ডেমোক্র্যাটরা কয়েক মাস ভিটো খাওয়ার পর নিজেদের ভুল বুঝে আলোচনা করতে বাধ্য হবে। এই বক্তব্যের সপক্ষে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লালাভ একটি টুপির (Cap) ছবি পোস্ট করেন, যাতে বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘VETO’।

রিপাবলিকান পার্টির এই বিশাল ভরাডুবির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধের প্রভাবকে আংশিকভাবে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি স্বীকার করেন যে, ইরান পরিস্থিতির কারণে জনগণের মধ্যে কিছু অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তবে তাঁর সরকার সঠিক পদক্ষেপই নিয়েছিল। এছাড়া টেক্সাসের বিদায়ী গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটসহ পরাজিত একাধিক রিপাবলিকান প্রার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতেও ছাড়েননি তিনি। ট্রাম্পের এই ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তিত মেজাজ ও প্রতিক্রিয়া মধ্যবর্তী নির্বাচন পরবর্তী ওয়াশিংটনের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।