২০২৬ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Elections) ডেমোক্র্যাট দলের বড় সাফল্য এবং কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি সভা (House of Representatives) ও সেনেট (Senate)—এর নিয়ন্ত্রণ বদল নিয়ে জোরালো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান। তেহরানের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ঐতিহাসিক ফলপ্রসূ নির্বাচনে মার্কিন জনগণ বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধবাদী ও আক্রমণাত্মক নীতিকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তারা সামরিক সংঘাতের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং দেশটির শীর্ষ বার্তা প্রদানকারী মহম্মদ বাঘের গালিবাফ (Mohammad Bagher Ghalibaf) সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ মার্কিন এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেখেন, “বিবেক কিংবা জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধিত ব্যয়—যেকোনো কারণেই হোক, আমেরিকানরা যুদ্ধকে সরাসরি ‘না’ (NO TO WAR) বলেছে এবং আমরা এই বার্তাকে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি”। এর পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “যদি মার্কিন সরকার ব্ল্যাকমেলার এবং আন্তর্জাতিক অর্থদাতাদের সন্তুষ্ট করতে নিজেদের দেশের জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা বা বিশ্বাসঘাতকতা করে, তবে তারা জেনে রাখুক আমাদের এই ‘না’ (NO) তাদের জন্য এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে আসবে”।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত, জ্বালানি তেলের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি এবং সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়—এসবের জেরেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর রিপাবলিকান পার্টিকে মার্কিন ভোটাররা নির্বাচনে কড়া জবাব দিয়েছে। খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার বিষয়টি নির্বাচনী ফলাফলে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা দেওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় এখন ক্যাপিটল হিলে হোয়াইট হাউসের নীতি ও প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার ওপর কড়া নজরদারি ও সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণ কায়েম হতে চলেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং সামগ্রিক পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।