মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Elections) রিপাবলিকান পার্টির নজিরবিহীন বিপর্যয় এবং কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের কাছে ক্ষমতা হারানোর পর আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও সামরিক পদক্ষেপে এক অভূতপূর্ব ও চমকপ্রদ সুরবদল দেখা গেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখ থেকে। বিশেষ করে দীর্ঘ দিন ধরে তেহরানের বিরুদ্ধে যে তীব্র সামরিক অভিযান ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরপরই সেই আগ্রাসী অবস্থান থেকে অনেকটাই পিছু হটলেন তিনি। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্ট কণ্ঠে মন্তব্য করেছেন, “আমি নিশ্চিতভাবেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না যা বাকি সমগ্র দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্তব্য কেবল একটি সাধারণ বয়ান নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় ধরনের পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তনেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত। নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর অনুগামীরা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র ও সামরিকঘাঁটিগুলিতে হামলা চালানোর ব্যাপারে যে ধরনের যুদ্ধংদেহী মেজাজ প্রদর্শন করছিলেন, মার্কিন জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তার চূড়ান্ত বিরোধিতা প্রকাশ করেছে। নির্বাচনে ভোটারদের এই বার্তা বুঝে যাওয়ার পর ট্রাম্প অনুধাবন করেছেন যে, এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে নতুন করে পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতে জড়ানো মার্কিন অর্থনীতির জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং দেশের ভেতরে তাঁর অবশিষ্ট রাজনৈতিক ভিত্তিকেও ধূলিসাৎ করে দেবে।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ সুনিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা তাঁর প্রধান দায়িত্ব হলেও, তা কেবল অপ্রয়োজনীয় শক্তি প্রদর্শন বা বেপরোয়া যুদ্ধের মাধ্যমে হতে পারে না। ট্রাম্পের কথায়, "আমরা আমাদের শক্তি প্রদর্শন করেছি, কিন্তু অহেতুক বিধ্বংসী যুদ্ধ ডেকে এনে নিজের দেশের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলার কোনো অর্থ হয় না।"
ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক মহল মনে করছে, মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা চলে আসায় এখন থেকে ট্রাম্পের যেকোনো সামরিক সিদ্ধান্ত বা বাজেটে বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হবে। ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার উপস্থিতিকে আর বাড়াতে দেবে না। ঘরোয়া রাজনীতির এই প্রবল চাপ এবং জনমতের তোপ—এই দুইয়ের ধাক্কাতেই মূলত তেহরানের বিরুদ্ধে নিজেদের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) দেওয়ার অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হলেন ট্রাম্প।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্পের এই সুরবদলের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি আপাতত কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। ইরানের সঙ্গে সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতের যে কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছিল, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধানের একটি নতুন রাস্তা উন্মুক্ত হতে চলেছে।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।