যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের ফলাফল আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেট আসনটি রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এই আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এবং সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান মাইক হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন।
দীর্ঘদিন পর নর্থ ক্যারোলাইনায় এই জয় ডেমোক্র্যাট দলের জন্য একটি বিশাল সাফল্য। সর্বশেষ ২০০৮ সালে নর্থ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাটরা সিনেট নির্বাচনে জিতেছিল। এরপর দলটি তাদের প্রার্থীদের পেছনে বিপুল অর্থ ও সময় বিনিয়োগ করলেও জয়ের দেখা পায়নি। এই আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়ার ফলে এখন সিনেটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের আরও তিনটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত আসন জিততে হবে এবং নিজেদের হাতে থাকা আসনগুলো ধরে রাখতে হবে।
এবারের নির্বাচনে ডেলাওয়্যার, ইলিনয়, ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড এবং নিউ জার্সিতে ডেমোক্র্যাট সিনেটররা তাদের আসন ধরে রাখবেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ফ্লোরিডায় রিপাবলিকানদের জয়, তবে হাউস আসনে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি
ফ্লোরিডায় সিনেট আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যাশলি মুডি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাঞ্জি নিক্সনকে পরাজিত করে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সিনেট আসনে রিপাবলিকানরা জয় পেলেও, প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস আসনগুলোতে ফ্লোরিডায় ডেমোক্র্যাটরা আগের চেয়ে ভালো করছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। রাজ্যের বেশ কয়েকটি আসনে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
উদাহরণস্বরূপ, ৯৫ শতাংশ ভোট গণনার পর রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান মেরি সালাজার তার প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। অথচ ২০২৪ সালে মায়ামির এই এলাকা থেকে তিনি ১৫ পয়েন্টেরও বেশি ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটরা ইতোমধ্যে ক্যাথি কাস্টর এবং জ্যারেড মোসকোভিটজের দুটি আসন ধরে রেখেছে, যা রিপাবলিকানদের লক্ষ্যবস্তু ছিল।
ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি
নির্বাচন উপলক্ষে এসএসআরএস (SSRS)-এর পরিচালিত এক বিশাল জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ অর্থনীতি এবং গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে। ১০ জনের মধ্যে ৬ জন পেট্রোল ও খাদ্যের দাম নিয়ে "খুবই উদ্বিগ্ন" এবং তারা মূল্যস্ফীতির জন্য বাইরের কারণের চেয়ে ট্রাম্পের নীতিগুলোকেই বেশি দায়ী করেছেন।
এছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া ১০ জনের মধ্যে ৬ জন বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র "ভুল সিদ্ধান্ত" নিয়েছে। ৯০ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি দুর্নীতি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল। তবে অধিকাংশ ভোটার আস্থা প্রকাশ করেছেন যে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।