হাইলাইটস
- ওসমান দেম্বেলের ২৫ মিনিটের দুরন্ত হ্যাটট্রিকে ৪-১ গোলে জিতল ফ্রান্স।
- বিশ্রামে ছিলেন এরলিং হালান্ড; ১০টি পরিবর্তন করে নেমেছিল নরওয়ে।
- গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ ষোলোয় উঠল ফ্রান্স।
- আক্রমণে ফ্রান্সের গতি, বৈচিত্র্য ও ধার দেখে শিরোপার অন্যতম দাবিদার বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফ্রান্সের এই আক্রমণভাগকে থামানোর মতো রক্ষণ আদৌ এই বিশ্বকাপে কারও আছে কি না, সেই প্রশ্নই যেন আরও জোরালো হয়ে উঠল। বোস্টনে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে নামা নরওয়ে প্রথমার্ধেই কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেন ওসমান দেম্বেলে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানে জিতে গ্রুপের শীর্ষে থেকেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ফ্রান্স। আগামী মঙ্গলবার নিউ জার্সিতে তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপের অন্য দলের রানার্স-আপ। অন্যদিকে নরওয়ে খেলবে আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে।
ম্যাচটির প্রচার হয়েছিল কিলিয়ান এমবাপে বনাম এরলিং হালান্ড—এই দুই মহাতারকার দ্বৈরথ হিসেবে। কিন্তু বাস্তবে সেই লড়াই দেখা গেলই না। হালান্ডকে বিশ্রাম দেওয়ার পাশাপাশি নরওয়ের কোচ স্টোলে সোলবাক্কেন প্রথম একাদশে মোট দশটি পরিবর্তন করেন। ফলে দলের রক্ষণে সমন্বয়ের চরম অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যার পূর্ণ সুযোগ নেয় ফ্রান্স।খেলা শুরুর মাত্র কুড়ি সেকেন্ডের মধ্যেই এমবাপে গোলের খুব কাছে পৌঁছে যান। দেম্বেলের নিখুঁত পাস ধরে এগিয়ে গিয়ে তাঁর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তিন মিনিট পরে মানু কোনের শক্তিশালী প্রচেষ্টাও দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক এগিল সেলভিক।ষষ্ঠ মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় ফ্রান্স। এমবাপের অসাধারণ তির্যক পাস থেকে বল পেয়ে দেম্বেলে ভেতরে কেটে এসে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। দর্শকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার উচ্ছ্বাস তখন বিস্ফোরিত হয়।২০ মিনিটে আবারও এমবাপের পাস থেকেই একই ধরনের আক্রমণে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন দেম্বেলে। নিচু শটে একই কোণে বল পাঠিয়ে নরওয়ের রক্ষণকে সম্পূর্ণ অসহায় করে দেন তিনি।
তবে নরওয়ে দ্রুতই এক গোল শোধ করে। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের পাস থেকে থেলো আসগার্ড দুর্দান্ত দক্ষতায় বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান কমান। কিছু সময়ের জন্য ম্যাচে উত্তেজনা ফিরলেও ফ্রান্সের আক্রমণের ধার তাতে এতটুকুও কমেনি।প্রথমার্ধ জুড়েই দেম্বেলের বাঁ-পায়ের কাট-ইন ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের কোনও উত্তর খুঁজে পায়নি নরওয়ে। বারবার একই জায়গা থেকে একই ধরনের আক্রমণে গোল হজম করতে হয় তাদের। দেম্বেলের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।নরওয়ের কোচের এত বড় রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়ে পুরো স্কোয়াডকে সুযোগ দেওয়ার ভাবনা থাকলেও বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিরুদ্ধে সেই সিদ্ধান্ত উল্টো বড় পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।এই জয়ের পর ফ্রান্স শুধু শেষ ষোলোয়ই উঠল না, বরং পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠা করল। এমবাপে ও দেম্বেলের যুগলবন্দি, মাঝমাঠের সৃজনশীলতা এবং আক্রমণের বৈচিত্র্য দেখে এখন প্রতিপক্ষদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই ফরাসি ঝড় থামাবে কে?